বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। যার মূলে রয়েছে তথাকথিত জম্বি জাহাজ । আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, আগে ভেঙে ফেলা হয়েছে এমন পরিচয়ধারী অন্তত তিনটি জাহাজ সম্প্রতি এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট।জাহাজগুলো হলো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জামাল যানবাহনবাহী বাল্টিক হাইওয়ে এবং অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার নাবিন । অথচ রেকর্ড অনুযায়ী, জামাল গত বছর ও বাল্টিক হাইওয়ে ২০২০ সালে ভারতে এবং নাবিন ২০২১ সালে বাংলাদেশে ভেঙে ফেলা হয়। ফলে বর্তমানে যেসব জাহাজ এই নাম ব্যবহার করছে, তাদের প্রকৃত পরিচয় ও বহন করা পণ্য নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।মেরিটাইম বিশ্লেষকদের মতে, এসব জাহাজ ভুয়া স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ সংকেত ব্যবহার করে নজরদারি এড়াচ্ছে। অতীতে উত্তর কোরিয়া এবং রাশিয়ার তথাকথিত ছায়া বহর এই কৌশল ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলবিষয়ক পত্রিকা লয়েডস লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, জাহাজগুলো ইরানের নিয়ন্ত্রিত একটি নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার করে চলাচল করছে। কেশম ও লারাক দ্বীপসংলগ্ন তথাকথিত তেহরান টোল বুথ -এ ইরানের আইআরজিসি জাহাজগুলোর নথিপত্র যাচাই করে। কিছু ক্ষেত্রে এখানে পারাপারের জন্য অর্থও নেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজ পার হতে আইআরজিসিকে প্রায় ২০ লাখ ডলার দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অবরোধ আরোপ করে তেহরান। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে পারস্য উপসাগরে শুরুতে প্রায় তিন হাজার জাহাজ আটকে পড়ে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়।পরবর্তী সময় ইরান শত্রুভাবাপন্ন নয় এমন জাহাজের জন্য সীমিত আকারে চলাচলের সুযোগ দেয়। তবে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, জম্বি জাহাজ পারাপারের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় আরও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।