২০২২ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজারে ট্রেন চলবে আইপি টিভি রেজিস্ট্রেশন নির্দেশিকা তৈরি হবে মেঘনায় ইলিশ, কেজি ৬০০ টাকা!দেশে করোনায় আরও ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছেইভ্যালির সম্পদ বিক্রি ও হস্তান্তরে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা
No icon

ফারাক্কার গেট খুলে দেয়ায় দেশে বন‌্যার আশঙ্কা

টানা বৃষ্টির ফলে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। শুধু বিহারে বন‌্যায় এখন পর্যন্ত ২৯ জনের মৃত‌্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিজেদের বন‌্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফারাক্কার ১০৯টি লকগেট খুলে দিয়েছে ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। এতে বাংলাদেশের নদ-নদীতে পানি বেড়ে গিয়ে অসময়ে বন‌্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারতের গণমাধ‌্যম জি নিউজে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে- গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে বিহারের রাজধানী পাটনাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বন‌্যায় ইতোমধ‌্যে বিহার উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও গুজরাট মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১৩৪ ছুঁয়েছে। ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যে প্রবল বর্ষণের ফলে গঙ্গা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ফারাক্কা বাঁধের সবকটি লকগেট একসঙ্গে খুলে দেয়া হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ও লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এর আগে ২০০১ সালে ভারতের ২৪ পরগনার বন‌্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমান্ত সংলগ্ন সমস্ত স্লুইস গেইট খুলে দেয়া হয়। তাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমের জেলাগুলোতে অসসময়ে বন‌্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সে সময় ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরার ব‌্যাপক অঞ্চল প্লাবিত হয়। মানুষের প্রাণহানিসহ গবাদিপশু ও ব‌্যাপকহারে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয় তাতে। এবারও তেমনই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত কয়েক দিনের টানা তীব্র বর্ষণে ভারতে গঙ্গা ছাড়াও মালদহ জেলার ফুলহর, মহানন্দা ও কালিন্দী নদীতে পানি বেড়েছে। গঙ্গা ও ফুলহর নদী চরম বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। একাধিক জায়গার বাঁধ ভেঙে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, মনে হচ্ছে আবহাওয়া বিভাগও খেই হারিয়ে ফেলেছে। একেক সময় একেক পূর্বাভাস দিচ্ছে।

বন‌্যার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করছ্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বাংলা অনেকটা নৌকার মতো। নেপালে বেশি বৃষ্টি, ভুটানে বেশি বৃষ্টি, ঝাড়খণ্ডে বেশি বৃষ্টি হলে, সব জল এখানে চলে আসে। আমাদের এখানে বন‌্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তবে ফারাক্কা খুলে দেয়ায় যে বাংলাদেশে বন‌্যা হতে পারে তা নিয়ে ভারতের নেতৃস্থানীয় কেউ কোনো কথা বলেননি।

ভারতীয় গণমাধ‌্যম বর্তমান তাদের এক রিপোর্টে জানিয়েছে, দিল্লির আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৯৪ সালের পর দেশে এবার সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সোমবারই (৩০ সেপ্টেম্বর) সরকারিভাবে দেশ থেকে বর্ষা বিদায় নিলেও, বিভিন্ন প্রান্তে এখনও বর্ষা সক্রিয় রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জুন মাসে বর্ষার ৩৩ শতাংশ ঘাটতি থাকলেও, জুলাই থেকেই গতি পায় বর্ষা। জুলাইয়ে ৩৩ শতাংশ ও আগস্টে ১৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়। সেপ্টেম্বরে এবার যা বৃষ্টি হয়েছে, গত ১০০ বছরে তেমন দেখা যায়নি। তাহলে এতো পানি কোথায় যাবে?