আবাসিক ভবনকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমোদন দেবে না রাজউকবিএনপি রাজনৈতিক অবস্থাকে বিষাক্ত করে তুলছে : ওবায়দুল কাদেরশিশুসহ আটক ৪, মেলেনি অস্ত্র-গোলাবারুদ সিদ্দিকুরের চোখে আলো ফেরার সম্ভাবনা কমইসলামের নামে দেশে জঙ্গিবাদ করতে দেবো না: প্রধানমন্ত্রী
No icon

রওশনের বিশেষ অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর কাছে

ঢাকাকে বাঁচাতে রাজধানীমুখী মানুষের স্রোত থামাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ অনুরোধ জানান। বিরোধীদলীয় নেতা ঢাকামুখী মানুষের চাপ কমাতে বিভাগীয় শহরে হাইকোর্টের বেঞ্চ দেয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আট বিভাগে হাইকোর্টের বেঞ্চ (ডিভিশন) দেন। ঢাকাকে বাঁচান। আপনি চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। রওশন বলেন, প্রতিদিন ৯৬০ নতুন লোক ঢাকায় আসছেন। ঢাকাকে বাঁচাতে চাইলে ছোট ছোট কলকারখানা করে দিন, যাতে যেখান থেকে লোকজন এসেছে, সেখানে ফিরে যেতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা যখন তিলোত্তমা শহর ছিল তখন কলকাতা ছিল নোংরা। এখন কলকাতা তিলোত্তমা আর নোংরা ঢাকা। লোকজন কাজের সন্ধানে স্রোতের মতো ঢাকায় আসছে। যেমন করে হোক ঢাকাকে বাঁচাতে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) চেষ্টা করুন। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, রাজধানীতে যে পরিবেশ দূষণ, রাস্তাগুলো ড্রেনের নামে খোঁড়াখুঁড়ি হচ্ছে, বৃষ্টিতে মানুষ, গাড়ি চলতে পারছে না, শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না, বৃষ্টি হচ্ছে অতিরিক্ত, ড্রেনেজ সিস্টেম ভালো না হওয়ায় পানি জমে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সঠিকভাবে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করছি।

তিনি বলেন, দেশে বর্জ্’যর সুষ্ঠু ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য হচ্ছে সবচেয়ে ভয়াবহ। এটার ঝুঁকি বেশি। মেডিকেল বর্জ্য অপসারণে কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এ বর্জ্য এমনভাবে অপসারণ করা হোক যাতে পরিবেশ দূষণ না হয়।

রওশন বলেন, সবাই মোবাইল ব্যবহার করছে। যে দেশগুলো মোবাইল বিক্রি করছে তাদের উচিত অকেজো মোবাইল নিয়ে যাওয়া। কিন্তু দেশে এ আইন নেই। 

তিনি বলেন, দেশে ৩০০ নদী আছে। এই নদীগুলো দূষিত হয়ে গেছে। অনেক নদী নষ্ট করে ফেলছি। কাজেই নদী ও গাছপালা বাঁচানো না গেলে মানুষ বাঁচবে না। সিটি কর্পোরেশন ড্রেনের জন্য গাছ কেটে ফেলছে।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, গাছ কেটে ফেললে ঢাকায় যে মানুষ থাকে তারা অক্সিজেন কোথায় পাবে? এ বিষয়ে কেউ কথা বলেনি। কথা বললে কিন্তু গাছগুলো বাঁচানো যেত। যত দ্রুত সম্ভব গাছ লাগানো উচিত। এত মানুষ নিঃশ্বাস নেবে কীভাবে? রাজধানী ঢাকাকে তিলোত্তমা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু সেটা কি পারছি?

রওশন এরশাদ বলেন, অনেক হাসপাতালে বেড আছে কিন্তু পাওয়া যায় না। দেখা যায় কাউকে কাউকে পয়সা দিলে বেড পাওয়া যায়। এই অনিয়মগুলো দূর হলে স্বাস্থ্যসেবা ভালোভাবে পেতে পারে।

তিনি বলেন, প্রায় ছয় লাখ মানুষ বন্যায় কষ্ট পাচ্ছে। বিশেষ করে ত্রাণের জন্য। আশা করব, ত্রাণমন্ত্রী সুষ্ঠুভাবে বণ্টনের ব্যবস্থা নেবেন। 

চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন ঘরে ঘরে চিকুনগুনিয়া হচ্ছে। মানুষকে সচেতন করার জন্য যা যা করণীয় সে বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

খাদ্যে ভেজাল সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ট্যানারি বা ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহার হওয়া লবণ মানুষকে খাওয়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কারা এগুলো করছে? ছুরি দিয়ে মারা আর বিষ খাইয়ে মারা একই।

দেশের জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য চেষ্টা করতে হবে। দেশে এখন সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ। ৮-৯ কোটি কর্মক্ষম মানুষ। দেশের প্রায় ৫ কোটি মানুষের কাজ আছে। আর সাড়ে ৪ থেকে ৫ কোটি মানুষের কাজ নেই। কাজ না পেয়ে নতুন প্রজন্ম বিপথে যাচ্ছে। প্রতি বছর প্রায় ২৮ লাখ ছেলে-মেয়ে পড়ালেখা শেষ করছে। কাজ না পেয়ে  তারা মাদকাসক্ত হচ্ছে।

রওশন বলেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা যদি বাড়ানো যেত তাহলে ভালো হতো।  বিশ্বায়নের যুগে বসবাস করছি। নিজেদের সব কিছু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করছি। চাকরিপ্রার্থীর সুযোগ বাড়াতে হবে।

আরো পড়ুন