রাজধানীতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দুই এলাকাবিডিবিএলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎসারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারেসবার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জঅরাজগত সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা : আইনমন্ত্রী
No icon

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা

বয়ঃক্রম অশীতিবর্ষ পূর্ণ হয়ে এলো প্রায়। চেতন আর অবচেতনে পারিপার্শ্বিকের বিচিত্র জয়-পরাজয় দেখেছি। সে দেখার মাঝে হয়তো চাপল্য ছিল। ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত বিজয় দেখা শুরু হলো। প্রবল প্রতিকূলতা উজিয়ে প্রায় অসম্ভবকে বাস্তবে এনে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক গোলামির শিকল পরলাম। অথচ আশ্চর্যের ব্যাপার, তখন অনাস্বাদিত আনন্দ অনুভব করিনি।বাংলার মানুষের ভাষাভিত্তিক সাংস্কৃতিক চর্চা ১৯৪৭ সালের পর পরিবর্তিত, বিকৃত হতে থাকে। নজরুল ইসলামের কবিতার ব্যবচ্ছেদ শুরু হয়। মহাশ্মশান শব্দটি উচ্ছেদ করে গোরস্তান সন্নিবেশ করে। ভাগ্যিস, কায়কোবাদের মহাশ্মশান কাব্যটি নিয়ে আদিখ্যেতা দেখায়নি। তবে বহুল পঠিত শিশুপাঠ্য কবিতাটির ;সকালে উঠিয়া কে ফজরে উঠিয়া পড়ার নসিহত দেয়। আরো অচেনা শব্দের জঞ্জালে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আবিলতা নেমে আসে। ভারতের ‘আকাশবাণীর আদলে পদলেহীরা রেডিও পাকিস্তানের নাম গায়েবী আওয়াজ রাখার প্রস্তাব রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মুক্তচিন্তার শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক মুক্তির স্বপ্ন দেখতে থাকেন। তাঁরা ভাষার অধিকারের দাবিতে রাজপথ রক্ত রঞ্জিত করেছেন। সেই পথ ধরে আমাদের স্বাধীনতা আবার দেখছি অঘটনের প্রত্যাবর্তন।

২০২১ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। গত ৫০ বছরে আমরা অগ্রগতির কোন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছি, তা দৃশ্যমান। ব্যক্তিগতভাবে আমি পুরুষানুক্রমে শিক্ষকতাসংশ্লিষ্ট। এই ৫০ বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের অর্জন-বিসর্জনের দিকটি না দেখলে প্রকারান্তরে নিজের অনুসৃতিকে অসম্মান করা হবে। বেশি দূর যাব না, ব্রিটিশ ভারতে ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে সরকারিভাবে শিক্ষার প্রতি নজর দেওয়া হলেও সে শিক্ষার উদ্দেশ্য ছিল শোষণের জন্য শাসনের মানবমেশিন তৈরি। স্বাধীন চিত্তবৃত্তি বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় চরিত্র গঠনের উদ্যোগ ছিল না। ব্যক্তিগত সাধনায় আমাদের কৃতবিদরা কিছুটা আলো ফেলেছিলেন। তবে এ সত্য মানতেই হয়, শিক্ষার বনিয়াদ নির্মাণে শিক্ষকরা ছিলেন নির্ভেজাল।