‘প্রতারক’ সাহেদ-সাবরিনার ব্যাংক হিসাব জব্দমনোনয়ন ‘ম্যানেজ’ করে সাহেদ এমপি হতে চেয়েছিলেনকরোনায় চট্টগ্রামের উপ পুলিশ কমিশনার মিজানের মৃত্যুকরোনা ভ্যাকসিনের প্রথম সফল পরীক্ষা রাশিয়ায়!চীনে ভয়াবহ বন্যা, ১৪১ জনের বেশি প্রাণহানির শঙ্কা
No icon

সব কিছু খোলা সঙ্গতিপূর্ণ নয় -ডা. মুশতাক হোসেন

করোনা সংক্রমণের এ সময়ে সব কিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা স্বাস্থ্যবিধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কারণ সংক্রমণের হার দিন দিন বাড়ছে, মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। কাজেই সরকারের ঘোষণা সংশোধন করা দরকার। নতুবা ফের নতুন করে বড় সংখ্যায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। একই সঙ্গে জীবনহানিও ঘটবে।সরকার সীমিত চালুর কথা বললেও, সাধারণ মানুষের কাছে মনে হবে সব কিছুই স্বাভাবিক চলবে। যেমন ঈদের আগে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তখন দেখা গেছে মানুষ ঝুঁকি নেই ভেবে মার্কেটগুলোয় ভিড় করেছিল। তাই সীমিত শর্ত যোগে সব কিছু চালু করা হলে সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।অনেকদিন ছুটি ছিল, কিছু কিছু জরুরি বিষয় আছে, সেগুলো খোলা দরকার। তবে সব কিছুই খোলার সিদ্ধান্তটা স্বাস্থ্যবিধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কারণ সংক্রমণের হার দিন দিন বাড়ছে, মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। এখনো সময় আছে, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। সরকারের পক্ষ থেকে সীমিত বলতে যা বোঝানো হয়েছে তা বাস্তবায়নেও মনিটরিং দরকার। মনিটরিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা দরকার। কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান, জনবল

কেমন; এগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। যেমন মতিঝিল অফিস খোলা মানেই হলো বাইরে লোকের ভিড়, খাবারের দোকান খুলবে, যানজট বাড়বে। অফিসের ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলল, কিন্তু বাইরে মানুষ কতটা স্বাস্থ্যবিধি মানবে? এ ক্ষেত্রে ফের নতুন করে বড় সংখ্যায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। একই সঙ্গে জীবনহানিও ঘটবে। কাজেই সরকারের ঘোষণা সংশোধন করা দরকার।করোনা সংক্রমণ এমনি এমনি কমে যাবে এমনটি ভাবা ঠিক নয়। কলেরা, টাইফয়েড, ইনফুলেঞ্জা ইত্যাদির ভাইরাসের থেকে কোভিড-১৯ এর জীবনচক্র ভিন্ন। কোভিড-১৯ এর ধরন হচ্ছে, একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে সংক্রমণ ঘটানো। আমরা যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যথাযথ না অনুসরণ করি, আমাদের সংক্রামণ প্রতিহত করতে পারব না। আগে আমাদের কমিনিউটিতে রোগী চিহ্নিত করতে হবে। প্রায়োজনীয় আইসোলশনের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের রোগীর সংখ্যা কমানো ছাড়া কোনো উপায় নেই। টেস্টের সংখ্যা অনেকগুণ বাড়াতে হবে। এখনো মানুষ টেস্টের জন্য ছোটাছুটি করছে, কিন্তু তাদের টেস্ট সময়মতো করাতে পারছে না।

আমাদের হাসপাতালগুলোয় ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা রয়েছে। যারা মারাত্মক সংক্রমিত তারাই হাসপাতালে আসছে। যারা মৃদু সংক্রমিত তারা তো হাসপাতালে যায়নি, অর্থাৎ তাদের কাছ থেকে সংক্রমণ বেড়ে যাবে।হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসকরা অনেক আন্তরিক, তারা যদি সময়মতো সব লজিস্টিক সাপোর্ট না পায় তা হলে কীভাবে সেবা দেবে। এর সঙ্গে রক্ত সঞ্চালন বিভাগ, হৃদরোগ বিভাগ, রেডিওলজি, এগুলো জড়িত। এখন এসব সমন্বয়ে কোভিড-১৯ এর জন্য পৃথক একটা কাঠামো দরকার।