রেড জোনে থাকা সরকারী কর্মকর্তাদের অফিসে আসতে মানাকরোনায় প্রাণ হারালেন আরও এক চিকিৎসকসমস্যা এখন স্বাস্থ্যবিধি নিয়েবসুন্ধরা সিটি খুলতে পারে আগামী সপ্তাহেঅফিস-কারখানা ও পরিবহন আবার বন্ধ চান ৩৩৪ বিশিষ্ট নাগরিক
No icon

করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ছে

দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি। এর মধ্যে বেশির ভাগই মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত। প্রতি অর্থবছর সরকার বাজেট ঘোষণা করে। কিন্তু বাজেটে বঞ্চিতদের তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে এসব মানুষের আয় তলানিতে নেমেছে। তবে আয় কমলেও কমেনি জীবনযাত্রার ব্যয়। ফলে তারা আরো কোণঠাসা অবস্থায়। এসব মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে আসছে অর্থবছরের নতুন বাজেটে বাড়ানো হচ্ছে করমুক্ত আয়সীমা। চার অর্থবছর পর করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়ছে। এ চার অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা এক টাকাও বাড়ায়নি সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে রাজস্ব আয়ে ধস নেমেছে। এ জন্য আগামী অর্থবছরের করের আওতা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকার বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় কারো ওপর চাপ বাড়াতে চায় না। সে জন্য করমুক্ত আয়সীমার ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, মানুষের আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে করমুক্ত আয়সীমা সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। করমুক্ত আয়সীমা দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। আগামী অর্থবছরে যদি আড়াই লাখ থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা হয় তাহলে এটা খুব যৌক্তিক হবে না। এ সীমা সাড়ে তিন লাখ থেকে চার লাখ টাকা হওয়া উচিত।তিনি বলেন, শুধু প্রান্তিক করদাতার সংখ্যা বাড়িয়ে লাভ নেই। বরং শক্তিশালী করদাতার সন্ধান করতে হবে। এদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যাচাই করা উচিত। তাহলে আরো করদাতা বের হয়ে আসবে। যার আয় বেশি আছে সে যেন কর দেয়, সেটা নিশ্চিত হতে হবে।

সূত্র মতে, দেশে করদাতার সংখ্যা ৪৪ লাখ। করমুক্ত আয়সীমা বাড়লে এর মধ্যে অনেকেই করের আওতার বাইরে চলে যাবে। বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা মাথাপিছু আয়ের দেড় গুণ। এসব যুক্তি দেখিয়ে গত চার অর্থবছর সাধারণ করদাতার করমুক্ত আয়সীমা একই বৃত্তে আটকে রাখা হয়েছে। অথচ চার অর্থবছরে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। কনজু্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবছরই মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে চলেছে। ২০১৯ সালে জীবনযাত্রায় ব্যয় বেড়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। আর পণ্য ও সেবা মূল্য বেড়েছে ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ। এর আগে ২০১৮ সালে এই বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৬ শতাংশ এবং ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৭ সালে ছিল ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। জীবনযাত্রার ব্যয়ের পাশাপাশি গত চার অর্থবছরে মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। কিন্তু তার পরও করমুক্ত আয়সীমায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।