দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে অপরাধ কমবে: তোফায়েলনুসরাত হত্যা: আ'লীগ নেতা রুহুল ৫ দিনের রিমান্ডেসাজা শেষ, তবুও কারাগারে বিদেশি বন্দিরা!খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি-শপথ শুধুই গুঞ্জন: মির্জা ফখরুলসিন্ডিকেটের কবলে রোজার চার পণ্য
No icon

আমরা আমাদের শিক্ষাকে ‘ব্র্যান্ডিং’ করতে চাই : দীপু মনি

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্র্যান্ডিং করতে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, গত দশ বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। শিক্ষার গুণগত মানের উন্নয়নে কাজ করার এখনই উপযুক্ত সময়। আমরা চাই আমাদের শিক্ষাকে ব্র্যান্ডিং করতে। এজন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষসহ সবাইকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় ১৪ নম্বর সেক্টর খেলার মাঠে বেসরকারি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

শিক্ষাকে ব্র্যান্ডিং করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা মেড ইন জার্মানি দেখলে নির্দ্বিধায় কোনো জিনিস কিনি। কোনো একজন নন-টেকনিক্যাল মানুষও আইফোন বা স্যামসাং প্রায় এক লাখ টাকা দিয়ে বিনা সংকোচে কেনে। কারণ তারা ওই পণ্যের কোয়ালিটি সম্পর্কে নিশ্চিত। সেই ক্ষেত্রে পণ্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টেক মেইন রেসপন্সিবিলিটি টু এনশিওর কোয়ালিটি অব প্রোডাক্টস।

তিনি বলেন, আমাদের গার্মেন্টস যেমন সারা বিশ্বে সুনাম অর্জন করেছে। সবাই জানে বাংলাদেশের গার্মেন্টস ভালো। এটাই হচ্ছে ব্র্যান্ডিং। ঠিক তেমনি আমরা আমাদের শিক্ষাকে ব্র্যান্ডিং করতে চাই। বাংলাদেশ ও সারা বিশ্বের মানুষ জানবে বাংলাদেশের শিক্ষার মান ভালো।

ডা. দীপু মনি বলেন, জ্ঞান বিতরণ একটি মহৎ কাজ হিসেবে পরিচিত। আমাদের সমাজে শিক্ষকরা পরম শ্রদ্ধার, পূজনীয় ও অনুকরণীয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষকদের কিছু কর্ম এবং অতিরিক্ত অর্থলোভ সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা আমাদের হতাশ করছে। মনে রাখতে হবে অর্থের চেয়ে সম্মান বড়। শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সমাবর্তনে ৬ হাজার ৮০৪ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা সমাপনী সনদ গ্রহণ করেন। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় সমাবর্তনে আটজন গ্র্যাজুয়েটকে ফাউন্ডার মিয়ান স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। এবারের সমাবর্তন বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী।

সমাবর্তনে অন্যদের মধ্যে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আইইউবিএটির উপাচার্য অধ্যাপক ড.আব্দুর রব।

প্রসঙ্গত, দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবিএটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও আইবিএর সাবেক প্ররিচালক শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. এম আলিমউল্যা মিয়ান স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।