রেড জোনে থাকা সরকারী কর্মকর্তাদের অফিসে আসতে মানাকরোনায় প্রাণ হারালেন আরও এক চিকিৎসকসমস্যা এখন স্বাস্থ্যবিধি নিয়েবসুন্ধরা সিটি খুলতে পারে আগামী সপ্তাহেঅফিস-কারখানা ও পরিবহন আবার বন্ধ চান ৩৩৪ বিশিষ্ট নাগরিক
No icon

বিশ্ব অর্থনীতি স্বাভাবিক হতে কত দিন লাগবে?

<করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার রোধে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশই জারি করেছিল লকডাউন। প্রায় দুই মাস সময় ধরে চলমান এই লকডাউনে ধুঁকছে বিশ্ব অর্থনীতি। তাই বাধ্য হয়েই দেশে দেশে অর্থনীতি সচল করতে তুলে নেওয়া হচ্ছে লকডাউন। অর্থনীতি যাতে আবার স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে, সেজন্যই লকডাউন ও বিধিনিষেধ শিথিল করছে দেশগুলো। কিন্তু কত দিনে অর্থনীতি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ ধারণা করছে, এসব লকডাউনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এ বছর ৩ শতাংশ সংকুচিত হবে। কিন্তু এর আগে তারা ঠিক পুরো উলটো ধারণা করে বলেছিল যে এ বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটবে ৩ শতাংশ। ১৯৩০ সালের বিশ্ব মহামন্দা পরিস্থিতি (যা গ্রেট ডিপ্রেশন নামে পরিচিত) তৈরি হয়েছিল, তারপরই এই প্রথম করোনা ভাইরাসে বিশ্ব অর্থনীতিতে এ ধরনের ধস নেমেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই পরিস্থিতি কত দিন স্থায়ী হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতি এই মন্দা পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বের হয়ে আসবে?

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ বলছে, মন্দা হচ্ছে যখন সর্বক্ষেত্রেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যায় এবং সেটা কয়েক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়। সাধারণত এটা প্রকৃত জিডিপি, প্রকৃত আয়, কর্মসংস্থান, শিল্প উত্পাদন এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রির মধ্যে প্রতিফলিত হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ বলছে, অর্থনীতিতে কোভিড-১৯-এর সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে ২০২০ সালের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে এপ্রিল, মে ও জুন এই তিন মাসে।তবে এটাও আশা করা হচ্ছে যে মে মাস নাগাদ বিশ্বের অনেক দেশের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে খুলে দেওয়া হচ্ছে, যাতে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হতে শুরু করবে। কিন্তু বছরের দ্বিতীয় ভাগের পর, অর্থাত্ জুন মাসের পরেও যদি লকডাউনের মতো বিধিনিষেধ বহাল থাকে, তাহলে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে এবং তার ফলে বহু মানুষ চাকরি হারাবে। যদি এরকম কিছু হয়, তাহলে মন্দা আরো অনেক বেশি গভীর হবে এবং তা থেকে বেরিয়ে আসতেও অনেক সময় লাগবে।