শবে বরাতের ইবাদত সম্পর্কে যা বললেন আল্লামা শফীনা.গঞ্জের মানুষ ছড়িয়ে পড়ছে জেলায় জেলায়ঢাকায় যে ৪৬ এলাকায় করোনা রোগী শনাক্তপ্রাণভিক্ষার আবেদন খুনি মাজেদেরস্পেনে ফের বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা
No icon

দাম এখনও চড়া, পণ্য কেনার হিড়িক কমছে

করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি কেনাকাটার প্রবণতা কিছুটা কমছে। রাজধানীর বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ও কম দেখা গেছে গতকাল। তবে এখনও চড়া দামেই বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে বাজার তদারকি জোরদার করায় এক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া দর সামান্য কমেছে। তবে গতকাল শনিবার নতুন করে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি।রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতি ও শুক্রবার যে ১৬টি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছিল, গতকাল শনিবার সেই বেড়ে যাওয়া দরেই বেচাকেনা হয়েছে।

 

তবে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমেছে।রাজধানীর বাজারগুলোতে দেখা যায়, করোনাভাইরাস আতঙ্ককে পুঁজি করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা চাল, ডাল, আলু, ভোজ্য তেল, আটা, ময়দা, ডিম, মসলাসহ প্রায় ২০টি পণ্য এখন চড়া দামে বিক্রি করছেন। প্রধান খাদ্য পণ্য চাল কিনতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজিতে গড়ে ১২ টাকা বেড়েছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষকে মোটা চাল কিনতে কেজিতে ১৫ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। গতকাল শনিবার গুটি ও স্বর্ণা চাল বেশিভাগ দোকানে পাওয়া যায়নি। অনেক ক্রেতাকে না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। তবে মাঝারি ও সরু চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। আগে ৩২ থেকে ৩৫ টাকা কেজি মোট চাল এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকা। মাঝারি মানের চাল ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও সরু চাল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। আর বাছাই করা ভালো ব্র্যান্ডের সরু চাল ৭৫ থেকে ৭৬ টাকায় উঠেছে।

 

কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী মইনুদ্দিন মানিক বলেন, বাজারে ক্রেতাদের ভিড় কমেছে। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার স্বাভাবিক বেচাকেনার চেয়ে ১০ গুণ বেশি বিক্রি করেছেন। এখন ওই তুলনায় বিক্রি কমে চার ভাগের এক ভাগে এসেছে।দু দিনের ব্যবধানে শুক্রবার পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ বাড়ান ব্যবসায়ীরা। এতে ৪০ টাকা কেজির পেঁয়াজ এক লাফে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা হয়ে যায়। গতকাল তা আবার কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কেজিতে ৩০ টাকা কমে আমদানি করা আদা ও রসুন ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি নতুন রসুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তিন দিন আগে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ছিল।পাইকারি আড়তে পেঁয়াজের দাম শুক্রবার ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি ছিল। গতকাল তা কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় নেমেছে। যেসব পাইকারি আড়তে অভিযান হয়েছে, সেসব বাজারে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় নেমে আসে।

 

অভিযানের পরে আলুর দামও কমে ১৪ থেকে ১৬ টাকায় নেমেছে। মিরপুর ১নং বাজারের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, অনেকেই বাড়তি কেনাকাটা করায় এখন বাজারে ক্রেতা কম আসছেন। এতে বিক্রি আগের দু'দিনের চেয়ে অনেক কমেছে। তবে এখনও স্বাভাবিকের চেয়ে চাহিদা বেশি রয়েছে।রাজধানীর বাজারে গতকাল প্রতি কেজি মসুর ডাল দেশি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা এবং আমদানি মোটা মসুর ৭০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়। সপ্তাহের ব্যবধানে এখন কেজিতে মসুর ডালের দাম ১৫ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। ছোলার দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। মুগ ডালের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চড়া দাম গুনতে হচ্ছে ভোজ্য তেলেও। খোলা সয়াবিন কেজি ১০৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন প্রতি লিটার ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পাঁচ লিটার সয়াবিনের বোতল ৫৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

এতে লিটারে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। এ ছাড়া ডিমের ডজনে ২৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় এখন ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।পাইকারিতে কমলেও খুচরায় কমেনি আলুর দাম। গত সপ্তাহে খুচরা বাজারে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া গোল আলু এখন ২৫ থেকে ২৮ টাকা। কাঁচাবাজারে সবজির দাম অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে। গতকালের মতো করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ২০ থেকে ৩০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পাকা টমেটো ২০ থেকে ৪০ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, গাজর ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, শালগম ২৫ থেকে ৩০ টাকা, মুলা ১৫ থেকে ২০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পটোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।মিরপুর ১নং বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুল জলিল বলেন, সব পণ্যের দাম বাড়লেও সবজির দাম স্থিতিশীল আছে। পচনশীল এই পণ্য মজুদ রাখার সুযোগ নেই। এ কারণে ক্রেতারা অতিরিক্ত কিনছেন না। তাই বাজার সরবরাহ ও চাহিদা স্বাভাবিক আছে।