পার্লামেন্টে মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন: মাহাথিরশ‌র্তের জেরে কমেছে সঞ্চয়পত্রের বিক্রিমুজিববর্ষে মুসলিমবিদ্বেষী মোদিকে বাংলাদেশের জনগণ দেখতে চায় নাএবার ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট করোনায় আক্রান্তবিশ্বের ৮০ শতাংশ ইলিশ আহরণ হচ্ছে বাংলাদেশে
No icon

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য : গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সরকার

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, চীন বাংলাদেশের বড় ব্যবসায়িক অংশীদার। দেশটি থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের বিষয়টি বাংলাদেশ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দেশের আমদানি-রফতানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বাণিজ্য সচিব আজ একটি বৈঠক করেছেন। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ের ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আগামী তিন দিনের মধ্যে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেবে এফবিসিসিআই। এ প্রতিবেদনের ওপর সরকার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।

তিনি আরও বলেন, তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে কোনো সমস্যা নেই। তবে করোনাভাইরাস সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে চিন্তার বিষয়। চীনের সঙ্গে যেসব সেক্টরে বাণিজ্য রয়েছে বিশেষ করে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএসহ সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কাজ করছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যে বোঝা যাবে। ব্যবসায়ীরাও বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টিপু মুনষি বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে যে সমস্যা চলছে, উভয় দেশের বাণিজ্য ক্ষেত্রে এর প্রভাব পর্যালোচনা করে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এ সমস্যা বেশি দিন অব্যাহত থাকলে আগামী দিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তথা সরকার এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সব দেশ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছে। বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে কাজ করছে।

এই মুহূর্তে চীন থেকে কোনো পণ্য আমদানি বন্ধ আছে কি-না জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এখনও পণ্য আমদানি বন্ধ হয়নি। তবে করোনাভাইরাস দীর্ঘমেয়াদি হলে আমাদের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। ভোগ্যপণ্য হয়তো সহজেই অন্য দেশ থেকে আমদানি করা যাবে। কিন্ত তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি করা হয়, তা নিয়ে ভাবার বিষয়। কারণ এসব পণ্যের আমদানি বিকল্প দেশ খুঁজে পাওয়া কঠিন।

এর আগে এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন। সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, এনবিআরের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতা ও সরকারের অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্কে সারা বিশ্ব। তাই বিশ্বের বেশকিছু দেশ ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে নানা ধরনের সংযোগ বিছিন্ন করেছে। বর্তমানে দেশটির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আমদানি-রফতানি বাণিজ্য হওয়ায় আতঙ্কিত বাংলাদেশও। তাই চীন ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি-রফতানির বিষয়ে কৌশল নির্ধারণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনের মূল ভূখণ্ড ও এর বাইরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬৪ জনে। বুধবার চীনে নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও দুই হাজার ৯৮৭ জন।