‘পাকিস্তানকে পানি দেয়া বন্ধ করে দেবে ভারত’আবরার হত্যায় দেশ-বিদেশে গণস্বাক্ষর অভিযান চালাবে ঐক্যফ্রন্টকুয়েটে প্রতি আসনে লড়বেন ১১ জন, পরীক্ষা ১৮ অক্টোবরপাঁচ কেজি চালে ১ কেজি পেঁয়াজ!মানুষের উচিত হবে সরকারকে ঘাড় ধরে বের করে দেয়া: ড. কামাল
No icon

গোপনে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার বিক্রি, পরিচালকের হিসাব জব্দ

অনিয়ম আর নানা দুর্নীতে জড়িয়ে পড়ে সংকটে থাকা পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (পিএলএফএসএল) এক পরিচালকের বিরুদ্ধে এবার গোপনে শেয়ার বিক্রির তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তদন্ত করে এ অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. মনোয়ার হোসেনের বিও হিসাব ফ্রিজ (জব্দ) করেছে বিএসইসি। একই সঙ্গে ওই পরিচালককে এক লাখ টাকা জরিমনা করা হয়েছে।
 মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৬৯৮তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাইফুর রহমান জানান, বিএসইসির এসআরএমআইসি বিভাগের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পিপলস লিজিংয়ের স্পন্সর (উদ্যোক্তা) ড. মনোয়ার হোসেন পূর্ব ঘোষণা ছাড়া কোম্পানিটির এক লাখ ৫৮ হাজার ৫৩২টি শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি কমিশনের নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছেন।

এ অপরাধের কারণে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তার ই-সিকিউরিটিজ লিমিটেড-এ পরিচালিত বিও হিসাব (নম্বর-১২০২৮৮০০১৮৪৮৫৩৮৪) ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ওই শেয়ার বিক্রি সংক্রান্ত কর পরিশোধের নির্দেশনা দেয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এদিকে নানা সংকটে থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের শেয়ার পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোম্পানটি বন্ধের উদ্যোগ নেয়ার পর গত ১৪ জুলাই থেকে বাজারে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করে দেয় ডিএসই।

সর্বশেষ গত ২৬ সেপ্টেম্বর ডিএসইর পর্ষদ সভায় নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার লেনদেন ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এর আগে আরও তিন দফা কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধের মেয়াদ বাড়ায় ডিএসই।

এর মধ্যে প্রথম দফায় ১৩ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত, দ্বিতীয় দফায় ২৮ আগস্ট থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং তৃতীয় দফায় ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার লেনদেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এর আগে পিপলস লিজিং বন্ধের উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যে কারণে অনেক শেয়ারহোল্ডার পানির দরে কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি করে দিতে চান। কিন্তু ক্রেতার অভাবে হতাশ হতে হয় তাদের। নামমাত্র অর্থে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দিলেও ক্রেতার অভাবে শেয়ার বিক্রি করতে পারেননি শেয়ারহোল্ডাররা।

গত জুলাইতে অনিয়ম-দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনায় চরম সংকটে থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিপলস লিজিংয়ে ঋণ বিতরণে অব্যবস্থাপনা, সম্পত্তির ঝুঁকি ও তারল্য সংকটের মধ্যে রয়েছে। তারা আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে পারছে না। সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে চিঠি দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

চিঠিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনের ২২ (৩) এবং ২৯ ধারায় প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। সম্মতি দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় গত ২৬ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দেয়। চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানিটি অবসায়নের উদ্যোগ নিলে শেয়ারহোল্ডাররা আতঙ্কে পানির দরে শেয়ার বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দফায় দফায় দাম কামানোর পরও ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ পরিস্থিতিতে কারসাজির শঙ্কায় কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করে দেয় ডিএসইর পর্ষদ।

প্রথমিকভাবে ডিএসইর পর্ষদ সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যতদিন কোম্পানিটির অবসায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসবে লেনদেন বন্ধ থাকবে। এরপর ১৫ দিন করে শেয়ার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ দিন করে ডিএসই কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ রাখছে এবং মেয়াদ শেষ হলে আবারও ১৫ দিন সমায় বাড়ানো হচ্ছে।