নুসরাতকে নিচ থেকে ছাদে নিয়ে হাত বাঁধে শম্পানুসরাত হত্যায় পুলিশের গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীভারতে প্রকাশ পাচ্ছে আফ্রিদির আত্মজীবনীমূলক বইস্কুলে সন্তানকে নিরাপদ রাখতে কী করবেন?নুসরাত হত্যায় মানি লন্ডারিং সংশ্লিষ্টতার অনুসন্ধানে সিআইডি
No icon

ইতিবাচক রফতানি : নয় মাসে প্রবৃদ্ধি ১২.৫৭ শতাংশ

তৈরি পোশাক খাতের ওপর ভর করে ইতিবাচক ধারায় রয়েছে রফতানি আয়। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) তিন হাজার ৯০ কোটি ৩০ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। রোববার (৭এপ্রিল) রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। রফতানিকারকরা বলছেন, রফতানি আয়ে সুখবর নিয়েই অর্থবছর শুরু হয়েছিল। যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। এর মূল কারণ দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক রফতানিতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে অন্যান্য খাতেরও আয় ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ফলে রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হচ্ছে।

তাদের প্রত্যাশা, বছরের পরবর্তী মাসগুলোতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে। ইতিবাচক এ ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১

আলোচিত সময়ে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয় এসেছে দুই হাজার ৫৯৫ কোটি ১৪ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি এ বছর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে পোশাক খাতে রফতানি আয় ছিল দুই হাজার ২৮৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের নয় মাসে বড় খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে অর্থাৎ ৫৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় কৃষিপণ্য রফতানিতে। এ খাত থেকে আয় এসেছে ৭২ কোটি ২৭ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৫২ শতাংশ।

প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ খাতে আয় হয়েছে সাত কোটি ৩৫ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি।

আলোচিত সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে। একই সঙ্গে অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রাও। পাট ও পাটজাত খাত থেকে মার্চ শেষে রফতানি আয় এসেছে ৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১ দশমিক ৬৯ শতাংশ কম। এছাড়া চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে ৭ দশমিক ১২ শতাংশ। প্রবৃদ্ধিও গত বছরের চেয়ে ৯ শতাংশের বেশি কমেছে। আলোচিত সময়ে এ খাতে আয় হয়েছে ৭৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার।

৮-১৯ অর্থবছরে সব ধরনের পণ্য রফতানিতে বৈদেশিক মুদ্রার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ৮৮২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ সময়ে আয় হয়েছে তিন হাজার ৯০ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি প্রবৃদ্ধি এ বছর অর্জিত হয়েছে ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রফতানি আয় ছিল দুই হাজার ৭৪৫ কোটি ১৭ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে চলতি বছরের মার্চে রফতানি আয় হয়েছে ৩৩৪ কোটি ডলার। লক্ষ্য ছিল ৩২৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এ হিসাবে এ মাসে আয় বেড়েছে সাত কোটি ৭২ লাখ ডলার। গত বছরের মার্চে এ আয় হয়েছিল ৩০৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। এ হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের (জুলাই-মার্চ) সময়ের নয় মাসে মোট রফতানি আয়ে পোশাকের অবদান ৮৩ শতাংশ। তবে হোমটেক্স, টেরিটাওয়েলসহ এ খাতের অন্যান্য রফতানির উপখাত হিসাব করলে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ৮৮ শতাংশেরও বেশি হবে।