শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত ৬ মন্ত্রণালয়ের বৈঠক সন্ধ্যায়পঞ্চম ধাপে ২৯ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ কালউৎকণ্ঠায় শিক্ষার্থীরা এখন ধৈর্যহারাস্কুল-কলেজ খোলার পরিবেশ পর্যালোচনা সভা শনিবারউন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশ
No icon

জঙ্গি ইস্যু : ভাড়াটিয়াদের তথ্য পেতে ডিএমপির তাগাদা

দেশে পুনরায় বিক্ষিপ্তভাবে বেশ কয়েকটি স্থানে জঙ্গি তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের অপতৎপরতা বন্ধে বদ্ধপরিকর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর কোথাও বাসা ভাড়া নিয়ে জঙ্গিরা যেন অপতৎপতা চালাতে না পারে সেজন্য মালিকদের ভাড়াটিয়াদের তথ্য ফরম পূরণ এবং তা জমা দেয়ার জন্য জোর তাগাদা দিচ্ছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশ, ভাড়াটিয়া ও বাসার মালিকদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান হামলার আগে থেকেই রাজধানীতে ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে তথ্য পেতে পুলিশ বিনামূল্যে বিতরণ করে ‘ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম’। এর মধ্যেও বেশ কয়েকটি স্থানে জঙ্গিরা বাসার মালিককে ভুয়া তথ্য দিয়ে, ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম জমা না দিয়ে কালক্ষেপণ করে এবং পরবর্তী সময়ে পালিয়ে যায়। এ সময়ের মধ্যে তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করে নেয়।

সম্প্রতি জঙ্গিরা ভুয়া পরিচয়পত্র ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে সুবিধাজনক স্থানে বাসা ভাড়া নেয়। এমন তথ্য পাওয়ার পর ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম শতভাগ নিশ্চিত করতে বাসার মালিকদের তাগাদা দিচ্ছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের শেষ দিক থেকে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করে ডিএমপি। ভাড়াটিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইমেইল আইডি, গাড়িচালক ও গৃহকর্মীর তথ্যসহ ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চাওয়া হয়।

ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কমিউনিটি পুলিশিং সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং ভাড়াটিয়াদের তথ্য ফরম শতভাগ নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিট পুলিশিং ব্যবস্থা চালু হয়। বর্তমানে রাজধানীর প্রতিটি থানায় তিন থেকে নয়টি বিট কাজ করছে। রাজধানীতে সর্বমোট ২৮৭টি বিট রয়েছে। প্রতিটি বিটের দায়িত্বে রয়েছেন পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই)। তথ্য ফরম বিলি করা, জমা নেয়া এবং জমা নেয়ার জন্য প্রচারণা চালিয়ে আসছে বিট পুলিশ কর্মকর্তারা।

২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীতে শুরু হয় ডাটাবেইজ সিস্টেম। ডিএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্যই তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করা হচ্ছে। এতে কেউ হয়রানির শিকার হবে না। পাড়া-মহল্লা ভিত্তিক এ তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তথ্যের হার্ড কপি ও সফট কপি দুটোই সংরক্ষণ করা হবে। ভাড়াটিয়ার নিবন্ধন ফরম জমা না দিলে খেসারত দিতে হবে বাড়িওয়ালাকে।

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বাড়িওয়ালা যদি ভাড়াটিয়ার নিবন্ধন ফরম জমা দিতে ব্যর্থ হন এবং ওই বাড়িতে যদি কোনো অপরাধ হয় তাহলে এর দায়-দায়িত্ব বাড়িওয়ালাকে নিতে হবে। বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের দায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ভাড়াটিয়ার তথ্য ফরম জমা না দেয়ায় গুলশান হামলার পর দুটি বাসার মালিককে গ্রেফতার করা হয়। অপরাধীদের সহযোগিতা করার প্রমাণ মিললে বাসার মালিক এবং ভাড়ার প্রক্রিয়ায় জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে বাড্ডার সাতারকুলের জিএম বাড়ি এলাকার ৭ নম্বর রোডের ৫৭৭ নম্বর বাড়ি থেকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জানা যায়, বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াদের কোনো তথ্যই রাখেননি।

মিরপুরের শাহআলী এলাকার একটি জঙ্গি আস্তানা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শক্তিশালী গ্রেনেড ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকসহ সাত জঙ্গিকে গ্রেফতার করে। ছাত্র পরিচয়ে ওই বাসা তারা ভাড়া নেন। তাদের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কেও বাড়ির মালিকের কাছে কোনো তথ্য ছিল না।

নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি তামিম চৌধুরী, রাজধানী রূপনগরে জঙ্গি মেজর জাহিদ বাসা ভাড়া নিয়েছিল ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে। গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় হামলাকারী জঙ্গিরা নিজেদের পরিচয় গোপন করে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। বাড়ির মালিক আবদুস সাত্তারের কাছে তারা নিজেদের পরিচয় দিয়েছিল স্থানীয় গুরুদয়াল কলেজের ছাত্র হিসেবে।

২৩ জানুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার দনিয়া রোডের পূর্ব দোলাইরপাড়ে একটি বাড়িতে নির্মাণ শ্রমিক পরিচয়ে জঙ্গিরা বাসা ভাড়া নেয়। ১৫ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানায় আটক জঙ্গি দম্পতি জসিম ও আর্জিনা ভুয়া পরিচয়পত্র দিয়ে দুটি বাড়ি ভাড়া নেয়।

এসব ঘটনায় পুনরাবৃত্তি যাতে আর না হয় এবং রাজধানীতে যাতে জঙ্গিরা তৎপরতা চালাতে না পারে সেজন্য রাজধানীর প্রত্যেকটি এলাকায় ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম পেতে বাড়ির মালিকদের তাগাদা দিচ্ছে থানা পুলিশ।

কল্যাণপুর ৪৩/২- এর বাড়ির মালিক  জানান, নতুন ভাড়াটিয়া আসলেই তথ্য ফরম পূরণ করে তা পুলিশকে দিতে হচ্ছে। এ এলাকায় জাহাজ বিল্ডিংয়ে জঙ্গি আস্তানা আবিষ্কারের পর পুলিশি চাপ বেড়ে গেছে।

যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার দনিয়া রোডের পূর্ব দোলাইরপাড়ের বাড়ির মালিক আবুল হোসেন জানান, বিট পুলিশের কর্মকর্তারা প্রতি সপ্তাহে নতুন নতুন বাসিন্দা ও ভাড়াটিয়ার তথ্য নিচ্ছেন। তারা সরেজমিন এসে এলাকা পরিদর্শন করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ডিএমপি’র যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন  বলেন, ডিএমপিতে ভাড়াটিয়াদের ডাটাবেজ সিস্টেম চালু করা হয়েছে। কোনো ভাড়াটিয়া যেন তথ্য ফরম পূরণ না করে অবস্থান করতে না পারেন সেজন্য বাসার মালিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও মনিটরিং থাকায় বাড়িওয়ালারাও সতর্ক হয়েছেন।

ভাড়াটিয়াদের মধ্যে সন্দেহজনক কিছু পরিলক্ষিত হলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানায় তথ্য দেয়ার অনুরোধ জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে সফটওয়্যারভিত্তিক ডাটাবেজ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ২৪৯টি পরিবারের নিবন্ধন ডাটাবেজে সংরক্ষণ করেছে ডিএমপি। যার সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখের উপরে।