রেড জোনে থাকা সরকারী কর্মকর্তাদের অফিসে আসতে মানাকরোনায় প্রাণ হারালেন আরও এক চিকিৎসকসমস্যা এখন স্বাস্থ্যবিধি নিয়েবসুন্ধরা সিটি খুলতে পারে আগামী সপ্তাহেঅফিস-কারখানা ও পরিবহন আবার বন্ধ চান ৩৩৪ বিশিষ্ট নাগরিক
No icon

সকালে আটক, দুপুরেই জামিন পেয়ে গেলেন শিক্ষক পেটানো সেই চেয়ারম্যান

কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিচারের নামে শিক্ষক ও নারী-শিশু পেটানো সেই আলোচিত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা সদরের নিউ মার্কেট এলাকা থেকে উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়ন পরিষদের ওই চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার পর আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দেবিদ্বার থানা পুলিশের এসআই মো. ইকতিয়ার। তিনি আরও জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দুটি মামলায় এজাহারনামীয় আসামি ওই চেয়ারম্যানকে উপজেলা সদরের নিউ মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে দুপুরের দিকে দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী আদালত-৪) আদালতে হাজির করা পর আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৯ এপ্রিল পারিবারিক বিরোধ মেটানোর নামে ওই চেয়ারম্যান একই ইউনিয়নের বেতরা দাখিল মাদরাসার শিক্ষক আজিজুর রহমানকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। এ ঘটনায় ওই শিক্ষক বাদী হয়ে গত ১৬ এপ্রিল চেয়ারমানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।

অপর ঘটনায় একই ইউনিয়নের উখারি গ্রামের মো. ওয়ালিউল্লাহর শিশু পুত্র শরীফ (১০) এবং স্ত্রী কাজল বেগমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বিচারের নামে মারধর করার ঘটনায় কাজল বেগম বাদী হয়ে গত ১৯ এপ্রিল চেয়ারম্যান ও তার ভাতিজা শামীমের বিরুদ্ধে থানায় পৃথক আরও একটি মামলা করেন। দুটি মামলায় প্রায় ৩ সপ্তাহ আত্মগোপনে ছিলেন চেয়ারম্যান।

এছাড়াও ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিগত প্রায় ৯ বছরে এলাকার বিভিন্ন লোককে বিচারের নামে নির্যাতনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম গত ২০ এপ্রিল কুমিল্লা জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেন। এসব অভিযোগ বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক তদন্ত করছেন বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে চেয়ারম্যানের হাতে নির্যাতিত ও মামলার বাদী মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা আজিজুর রহমান ক্ষোভের সাথে জানান, মামলার পর থেকে থানা পুলিশ চেয়ারম্যানকে আটকের কোনো চেষ্টাই করেনি। দুটি মামলার আসামি হয়েও তিনি (চেয়ারম্যান) পরিষদের কাজ চালিয়ে গেছেন। আত্মগোপনে থাকা সেই চেয়ারম্যান রোববার সকালে থানার অদূরে নিউ মার্কেট এলাকায় এসে বসে থাকবে, পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করলো, আদালতে নেয়া হলো, জামিন হয়ে গেল। সবই রহস্যজনক। এসব লুকোচুরির বিষয়ে ন্যায় বিচারের স্বার্থে তিনি কুমিল্লা পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।