রাজধানীতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দুই এলাকাবিডিবিএলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎসারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারেসবার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জঅরাজগত সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা : আইনমন্ত্রী
No icon

এখনও কাজে ফিরতে পারেননি অনেকে

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবহন সেবা দিতেন খায়রুল ইসলাম। তিনি আটটি মাইক্রোবাস ও ১৫টি ভ্যানের মালিক। করোনা সংক্রমণের আগে প্রতি মাইক্রোবাসে একজন চালক ও একজন আয়া কাজ করতেন। আর ভ্যান চালাতেন একজন করে। করোনার কারণে গত বছরের মার্চে স্কুল বন্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত এসব শ্রমিক কাজে ফেরার সুযোগ পাননি।রাজধানীর মতিঝিলে ;হীরাঝিল রেস্তোরাঁ বেশ পরিচিত। এর ম্যানেজার মো. হানিফ জানিয়েছেন, তাদের হোটেলে দুই শিফটে প্রায় দুইশ কর্মী কাজ করত। সরকার লকডাউনের আদলে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু খোলার পরে সব কর্মীকে কাজ দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ, হোটেলে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। একই অবস্থা মতিঝিলের আরেক রেস্তোরাঁ সরিষা ইলিশ-এর। এর ম্যানেজার সামসুল ইসলাম জানিয়েছেন, করোনার আগে তাদের প্রতিষ্ঠানে ২২ জন কর্মী ছিল। বর্তমানে তারা ১৬ জনকে দিয়ে চালাচ্ছেন। ওপরের দুটি উদাহরণ বলে দিচ্ছে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান আগের জায়গায় ফেরেনি। অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এ সমস্যা বেশি।

পূর্ণ উদ্যমে কাজ করতে না পারা, ব্যয় কমানোর চেষ্টা, প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে কাজের বাজারে স্থরিবতা দূর হচ্ছে না। তবে করোনা সংক্রমণের প্রথম দিকের তুলনায় এখন পরিস্থিতির অগ্রগতি হয়েছে। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এ সময় অফিস-আদালত, কলকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, বাজারসহ বিভিন্ন খাত বন্ধ ছিল। এতে বেকারত্ব বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে লাখ লাখ মানুষ কাজ হারান। সম্প্রতি উৎপাদন ও সেবা খাতের কার্যক্রমে গতি ফিরেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসংস্থান বিষয়ে কথা বলেছে সমকাল। অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই তার পুরো সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে করোনার আগে যত লোক কাজ করত, এখন তত মানুষকে কাজে লাগাতে পারছেন না অনেকেই।