শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত ৬ মন্ত্রণালয়ের বৈঠক সন্ধ্যায়পঞ্চম ধাপে ২৯ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ কালউৎকণ্ঠায় শিক্ষার্থীরা এখন ধৈর্যহারাস্কুল-কলেজ খোলার পরিবেশ পর্যালোচনা সভা শনিবারউন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশ
No icon

টিকাদানে সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে সরকার

করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে সরকার। এজন্য টিকাদান কর্মসূচি শুরুর আগে এ-সংক্রান্ত সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চায় স্বাস্থ্য বিভাগ। যাতে টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক কিংবা প্রশ্ন না ওঠে। সরকারের গাইডলাইন মেনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সবাইকে টিকার আওতায় আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্নিষ্ট বিভাগ ও সংস্থাগুলো কাজ করছে। সংশ্নিষ্টদের আশঙ্কা, টিকা নিয়ে একটি মহল গুজব ও অপপ্রচার সৃষ্টি করতে পারে। এতে করে টিকাদান কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সুতরাং যে কোনো ধরনের গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের হাইকমান্ডের নির্দেশনা রয়েছে।

টিকাদানের পরিকল্পনা :ভারত সরকারের উপহারের টিকার ২০ লাখ ডোজ ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে ২৫ জানুয়ারি ভারত থেকে সরকারের কেনা অক্সফোর্ডের টিকার ৫০ লাখ ডোজ দেশে পৌঁছাবে। ওই টিকা হাতে আসার পর আগামী ২৭ অথবা ২৮ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকার একটি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যবেক্ষণমূলক টিকাদান শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। প্রথম দিন সরাসরি করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ২০ থেকে ২৫ জনকে টিকা দেওয়া হবে। ব্যাপকহারে টিকাদান কার্যক্রম শুরুর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চারশ থেকে পাঁচশজনকে টিকা দিয়ে সাত দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরপর গণটিকাদান শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রতিদিন দুই দিন দুই লাখ ডোজ করে প্রথম মাসে ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হবে। এই টিকা নিয়ে আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন শুরু হবে। টিকা নিয়ে সতর্কতামূলক প্রচার :করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে যাতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া কিংবা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সেজন্য বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন দিয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য থেকে শুরু করে প্রতিবেশী দেশ ভারতে টিকা নেওয়ার পর কয়েকশ মানুষের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ কারণে সেসব দেশে টিকা নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকে টিকা নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। টিকা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সচেতন করছে সরকার।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকার ন্যায্যতা ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কভিড-১৯ টিকা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এক্ষেত্রে সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। জরুরি সেবাপ্রদানকারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, সামনের সারির সেবাপ্রদানকারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক, শিক্ষক ও যাদের বয়স আঠারো বছরের ওপরে তাদেরসহ জনগণকে পর্যায়ক্রমে টিকা দেওয়া হবে। নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নির্ধারিত কেন্দ্রে নির্দিষ্ট দিনে টিকা দেওয়া হবে। নিবন্ধনের জন্য বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

টিকা পেতে নিবন্ধন করতে হবে অ্যাপে :টিকাদানের সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে সুরক্ষা নামে একটি অ্যাপের মাধ্যমে। তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এই অ্যাপটি তৈরি করেছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে আজ এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে এই অ্যাপের মাধ্যমে টিকাগ্রহীতাদের নিবন্ধন শুরু হবে। এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অ্যাপটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। স্মার্ট মোবাইল ফোনে অ্যাপটি ডাউনলোড করে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ থেকেই নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধনের জন্য ফোন নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, নাম, জন্মতারিখ, অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা আছে কিনা, পেশাগত পরিচয় ইত্যাদি বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি করোনাভাইরাসের দুই ডোজ করে টিকা পাবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের বিস্তারিত তথ্য অ্যাপের মাধ্যমে জানা যাবে। ভারতসহ অনেক দেশ টিকাদানে এ ধরনের অ্যাপ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। কারা আগে টিকা পাবেন, সেই অগ্রাধিকারের তালিকাটি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকেও সংগ্রহ করা যাবে।