তিনদিনেও রিমান্ডে নেয়া যায়নি প্রদীপ-লিয়াকতকেএবার রেডিওতে প্রাথমিকের পাঠদান সম্প্রচারএ মৌসুমে আর বন্যা হবে নাহাসপাতালে ‘অভিযান’ চালানোর বিপক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রীওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর সম্পদের অনুসন্ধানে দুদক
No icon

স্বাভাবিক হয়ে আসছে জীবনযাত্রা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেই রাজধানী ঢাকার জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। সচিবালয়, অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি বেড়েছে আগের চেয়ে। রাজপথেও যানবাহন চলাচল প্রায় স্বাভাবিক। রাজধানীসহ সারা দেশে শপিং মল, মার্কেট, দোকানপাটেও মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে আগের চেয়ে। কয়েক দিন ধরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট দেখা যাচ্ছে। যদিও আসন্ন কোরবানি ঈদ পর্যন্ত সবকিছু সীমিত পরিসরে চালু রাখার জন্য সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। সেই ছুটির মেয়াদ দফায় দফায় বাড়িয়ে ৩০ মে পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময়ে মানুষকে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করে সরকার। কিন্তু ওই সময়েও দেশে বিভিন্ন শহর ও এলাকায় লোকজনকে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অবাধে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। এ অবস্থায় রোজার ঈদের পর সরকার প্রথম দফায় ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে সবকিছু খুলে দেয়। এরপর সীমিত পরিসরে সবকিছু খোলা রাখার মেয়াদ দুই দফা বাড়িয়ে আগামী ৩ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে।

গত দুই দিন প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়, মতিঝিল ব্যাংকপাড়া এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সর্বত্রই সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। অফিসগুলোতে সীমিত পরিসরের মধ্যেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত হয়ে কাজ করছেন। তবে সরকারি অফিসগুলোতে এখনো উপস্থিতির হার তুলনামূলক কম। রবি ও সোমবার সচিবালয়ে গিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগসহ বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখা গেছে, কর্মকর্তাদের উপস্থিতি অনেক কম। যাদের প্রয়োজন, শুধু তারাই অফিসে উপস্থিত হয়েছেন। অবশ্য সরকারেরও নির্দেশনা রয়েছে যাদের প্রয়োজন শুধু তারাই অফিস করবেন। বাকিরা বাসায় বসে অফিসের কাজ সারবেন। অবশ্য সরকারি দফতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি কম হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এবং ব্যাংকপাড়ার চিত্র একেবারেই ভিন্ন। রাজধানীর গুলশান এলাকায় অবস্থিত একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির একজন কর্মকর্তা জানান, তাদেরকে শুক্র ও শনিবার ছাড়া সপ্তাহের অন্য পাঁচ দিনই অফিস করতে হয়। অফিসে উপস্থিতির ক্ষেত্রে ব্যাপক কড়াকড়ি রয়েছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, চাকরি রক্ষা করতে অফিস করার কোনো বিকল্প নেই। তাই নিয়মিতই অফিস করতে হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, সাধারণ ছুটির সময়ে কিছুটা ছাড় থাকলেও এখন অফিসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।

ব্যাংকপাড়ার চিত্রও একই। রাজধানীর প্রায় সব ব্যাংকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি শতভাগ। একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, এই মহামারীকালে সাধারণ ছুটির সময়ে পালা করে ডিউটি করলেও সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ব্যাংকগুলো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিয়মিত করার বিষয়ে নোটিস দিলে সবাইকেই অফিস করতে হচ্ছে। ব্যাংকগুলোতে শুধু যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিই শতভাগ তা নয়, গ্রাহকরাও ভিড় করছেন প্রতিদিন। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধিও খুব একটা মানা হচ্ছে না। অর্থাৎ ব্যাংকপাড়ায় সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছে। বদলেছে রাজধানীর রাস্তাঘাটের চেহারাও। সাধারণত ঈদের লম্বা ছুটির পর রাজধানীর জীবনযাত্রা স্বাবাবিক হতে সপ্তাহখানেক সময় লেগে যায়। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ৬৬ দিনের টানা সাধারণ ছুটিতে নগরীর রাস্তাঘাট একেবারেই ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। অনেকটা কমে গিয়েছিল প্রাইভেট গাড়ির উপস্থিতি। সাধারণ ছুটি শেষে ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে সবকিছু খুলে দেওয়ার পরও রাস্তাঘাটে যানবাহনের উপস্থিতি ছিল বেশ কম। কিন্তু কিছুদিন ধরে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। গত তিন দিন রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, কাকরাইল, প্রেস ক্লাব, শাহবাগ, বাংলামোটর, ফার্মগেট, মিরপুর সড়ক, সায়েন্স ল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, পান্থপথ, বিজয় সরণি, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, জিরো পয়েন্ট, দৈনিক বাংলা মোড়, উত্তরা, বিমানবন্দর সড়ক, খিলগাঁওসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সব এলাকায়ই যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসছে। অনেক জায়গায় যানজটেও পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। প্রাইভেট গাড়ির পাশাপাশি গত কয়েক দিনে রাজধানীতে গণপরিবহনও বেড়েছে। মানুষের চলাচলও বেড়েছে। নগরীর রাস্তাঘাটের ব্যস্ততার পাশাপাশি শপিং মল, মার্কেট, দোকানপাট, কাঁচাবাজার সর্বত্রই মানুষের উপস্থিতি ও ব্যস্ততা বেড়েছে। সব মিলিয়ে গত কয়েক দিনে নগরীর জীবনযাত্রা আগের মতোই স্বাভাবিক হয়ে আসতে দেখা গেছে। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশের বড় শহরগুলোতে মানুষের জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।