শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত ৬ মন্ত্রণালয়ের বৈঠক সন্ধ্যায়পঞ্চম ধাপে ২৯ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ কালউৎকণ্ঠায় শিক্ষার্থীরা এখন ধৈর্যহারাস্কুল-কলেজ খোলার পরিবেশ পর্যালোচনা সভা শনিবারউন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশ
No icon

ধূমপানের আসক্তি কমাতে ভেপিং

ধূমপান ছাড়তে ভেপিং দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। কারণ হুট করে ধূমপান ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয় না অনেকের পক্ষে। যুক্তরাজ্যের ৩০ লাখ ভেপিং ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ প্রচলিত ধূমপান ছাড়তে ভেপিং ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে ভেপিং প্রচলিত সিগারেটের চেয়ে কম ক্ষতিকর বলে মত বিশেষজ্ঞদের।


দেশটির যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা বিভাগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় ভেপিংয়ে ৯৫ শতাংশ কম ক্ষতিকর। কেননা ভেপিংয়ে নিকোটিনের মাত্রা নির্ধারিত মাত্রায় রাখা যায়। যা প্রচলিত সিগারেটের চেয়ে তুলনামূলক নিরাপদ। ওই গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ভেপিং ব্যবহারে ক্যানসারের ঝুঁকি প্রচলিত দাহ্য সিগারেটের তুলনায় শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ।
ভেপিংয়ে নিকোটিনের মাত্রা কমিয়ে নেওয়া যায়। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সদস্যদের বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিষয়ক কমিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিকোটিনের এই পরিমিত ব্যবহার দীর্ঘ দিনের ধূমপানের আসক্তি কমিয়ে আনতে পারে।


একইমত নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েরও। ওই মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিগারেট ও ই-সিগারেট দুটোতেই নিকোটিন থাকে। কিন্তু প্রচলিত সিগারেট থেকে সেটা আসে পোড়ানোর মাধ্যমে, যার সঙ্গে অন্যান্য ক্ষতিকর রাসয়নিক শরীরে প্রবেশ করে। সেখানে ই-সিগারেটে তাপের মাধ্যমে শুধু নিকোটিন সরবারহ করে। যা প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকর।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ভেপিং নীতিমালা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই মনে করেন এটিকে নিষিদ্ধ করা উচিত। তবে প্রচলিত অস্বাস্থ্যকর ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে ভেপিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, নিউজিল্যান্ড এবং অন্যান্য উন্নত দেশের মতো আমাদেরও উচিত এই পণ্যটিকে সঠিক নীতিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা এবং তামাক পণ্য ব্যবহার কমাতে একে ব্যবহার করা।


এ বিষয়ে এনাম মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মিথুন আলমগীরের মতে, কোনো কিছু নিষিদ্ধ করতে হলে বা বিধি-নিষেধ আরোপ করতে হলে সে বিষয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য থাকতে হয়। তথ্য-উপাত্ত নির্ভর না হয়ে কোনো কিছু নিষিদ্ধ করা সমীচীন হবে না।


ডা. মিথুন আলমগীর আরও বলেন, ’প্রয়োজনে যেকোনো কিছু নিষিদ্ধ করার এখতিয়ার সরকারের আছে। তবে তা কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে সে বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা সুস্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।’


ই-সিগারেট খাত নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেপিং নিষিদ্ধ করা হলে তা ভালোর বদলে বরং উল্টো ফল দেবে। এতে একদিকে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াবে। এতে জনস্বাস্থ্য আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ করা হলে ধূমপান ছাড়ার উদ্যোগে বাঁধাপ্রস্ত হতে পারে। তাই বাস্তব ও সময়োপযোগী নীতিমালার আওতায় বিষয়টিকে নিয়ে আসা প্রয়োজন। যা ধূমপায়ীর সংখ্যা কমিয়ে সরকারের তামাকমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।