ব্যাংক লেনদেনের সময় বাড়লসৌদিতে রোজা শুরু মঙ্গলবারদেশে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ৭৮ জনের মৃত্যুআন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ মঙ্গলবার রাত থেকে'লকডাউন' সোম-মঙ্গলবারও কার্যকর
No icon

আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে অত্যাধুনিক রাডার

দেশের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে ও নিরাপদ রাখতে স্থাপন করা হচ্ছে অত্যাধুনিক রাডার। বিদ্যমান দুর্বল রাডার ব্যবস্থাপনায় গণ্ডির বাইরে থাকা আকাশপথে কোনো উড়োজাহাজ গেলে সেটার তথ্য জানা সম্ভব হচ্ছে না। অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম স্থাপনের পর দেশের আকাশসীমা দিয়ে যত উড়োজাহাজ যাবে তার সবই জানা যাবে। এজন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপন করা হবে সিএনএস-এটিএম (রাডারসহ) সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি।ফ্রান্স থেকে রাডার ও আনুষঙ্গিক এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ নেভিগেশন ও নজরদারি সংক্রান্ত সিস্টেমের সরবরাহকরণ, সংস্থাপন এবং কার্যকরের ফলে নতুন সমুদ্রসীমাসহ দেশের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। নিরাপদ হবে আকাশপথ। ওভারফ্লাইং চার্জের মাধ্যমে বাড়বে রাজস্ব।জিটুজি (সরকার-সরকার) পদ্ধতিতে রাডারসহ অন্তত ২০ ধরনের উপকরণ সংগ্রহ করবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ফ্রান্সের থ্যালেস টেকনোলজির আর্থিক প্রস্তাব নিয়ে নেগোসিয়েশন চলে। এরপর তা চূড়ান্ত করা হয় গত ৪ জানুয়ারি। সেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এখন এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারিতে চুক্তি হওয়ার কথা। চুক্তির পর তা সরবরাহ করতে সময় লাগবে ৩৩ মাস। বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান

, পুরনো রাডারের কার্যক্ষমতা কম। সেটি দিয়ে এয়ার ট্রাফিকসহ আকাশপথে নজরদারি চালাতে প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সক্ষমতা কম হওয়ায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা কাভার করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব এলাকায় রাডার কাভারেজের মাধ্যমে এয়ার ট্রাফিকিং করে আয় করছে প্রতিবেশী দেশ। নিজেদের সক্ষমতা না থাকলে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) বিধি অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশ তা পারে। এ প্রেক্ষাপটে সক্ষমতা বাড়াতে থ্যালেস থেকে যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে বেবিচকের নিজস্ব অর্থায়নে।বেবিচকের সদস্য (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস) গ্রুপ ক্যাপ্টেন চৌধুরী মো. জিয়াউল কবীর বলেন, ক্রয় প্রক্রিয়াধীন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির স্পেসিফিকেশন এরই মধ্যে আইকাওর অনুমোদন পেয়েছে। এখন চুক্তির আগে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে যাবে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে।

বর্তমানে পুরনো রাডার ও ত্রুটিপূর্ণ রেডিও ব্যবস্থা দিয়েই চলছে দেশের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট (এটিএম)। ৩৮ বছরের পুরনো এই রাডারে প্রায় সময় ধরা পড়ে না উড়ে যাওয়া বিমান। তা ছাড়া প্রায় সময় পাইলটের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কখনো কখনো কথোপকথনে পরিষ্কার শুনতে সমস্যার সমুখীন হচ্ছেন পাইলট ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা। এমন এয়ার ট্রাফিক সিস্টেম দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপদ এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট করতে গিয়ে মানসিক চাপে থাকেন সংশ্লিষ্টরা।