শবে বরাতের ইবাদত সম্পর্কে যা বললেন আল্লামা শফীনা.গঞ্জের মানুষ ছড়িয়ে পড়ছে জেলায় জেলায়ঢাকায় যে ৪৬ এলাকায় করোনা রোগী শনাক্তপ্রাণভিক্ষার আবেদন খুনি মাজেদেরস্পেনে ফের বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা
No icon

সম্মাননা পেলেন বইবাজার.কমের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা দোয়েল আক্তার

জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথিতযশা নারীদের হাতে সিটি আলো সম্মাননা পুরষ্কার তুলে দেয়া হয় উমেন্স আউট অফ দ্য বক্স অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। উক্ত অনুষ্ঠানে সম্মাননা পান বইবাজার.কমের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা দোয়েল আক্তার। শনিবার বিকেলে সিটি আলো গুলশান শাখায় চমৎকার সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বইবাজার.কমের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা দোয়েল আক্তার তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বইবাজার নিয়ে তাঁর সংগ্রামের কথা বলেন। নারী হিসেবে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন সে কথাও বলেন তিনি। যখন তিনি বইবাজার.কম শুরু করেন, তখন ধারনাটি কেউ বিশ্বাস করেনি। সারা বছর বই বিক্রি করা যাবে, এই ধারণা কেউ বিশ্বাস করেনি। কারণ, বই বিক্রি তখন ছিল বইমেলা কেন্দ্রিক।

তিনি বলেন, বই নিয়ে আমার ভালবাসা বইবাজার.কম খুলতে প্রেরণা দেয়। কিন্তু বাধা আসতে থাকে পদে পদে। আমার স্পষ্ট মনে আছে আজ থেকে ৫ বছর আগে যখন আমরা বইবাজার.কম শুরু করি তখন এক রুমের এক অফিসে ৫ জন নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়।

মানুষের কাছে বইবাজারকে পরিচিত করানো এবং কম রিসোর্স নিয়ে ভালো সেবা দেয়া সহজ ছিল না। প্রথম দুই বছর খুব কষ্ট হয়েছে আমাদের। প্রথম বইমেলায় অপ্রত্যাশিত এত অর্ডার ছিল যে আমিও রাত জেগে ফেসবুকে ক্রেতাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি।

আমাদের ইনভেস্টমেন্ট শেষ হতে থাকে। শুধু এক মাস আমি বেতন দিতে পারিনি আমার সহকর্মীদের। এমন পরিস্থিতিতে আমার বিশ্বাস আমার কাছেই প্রশ্নবোধক হয়ে দাঁড়ায়।

এরপরেও থেমে থাকেননি দোয়েল আক্তার, যা স্পষ্ট হয়ে উঠে তাঁর কথায়। তিনি যোগ করেন, না, আমি বিশ্বাস থেকে সরে যাইনি। একজন এঞ্জেল ইনভেস্টর পেয়ে যাই সে সময়।

আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আমি চাই, এই দেশের ছেলেমেয়েরা বইপড়বে যখন তখন, যা চাইবে। যদি বড় দেশ আমরা গড়তে চাই তবে দরকার বড়মনের মেধাবী মানুষ।

আর এজন্যই দরকার বইপড়া। বই পড়া নিয়ে গরীব ধনীর ব্যবধানও কাম্য নয়। কারো বাবা ছোট্ট একটা চাকরি করেন বলে সে এই বইমেলার কোন বই-ই কিনতে পারেনি।

এটা আমি মেনে নিতে পারি না। আমি স্বপ্ন দেখি এই পরিস্থিতি থেকেও উত্তরণের। আজ এখানে আসতে পেরে আমার বিশ্বাস আরও পাকাপোক্ত হয়েছে যে, আমি তা পারব, ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, ৫ বছরের এই পথ পরিক্রমায় তিনি তিলতিল করে গড়ে তুলেছেন ৮.৫ মিলিয়ন ডলারের একটি কোম্পানি।

বইবাজার.কম নিয়ে তাঁর স্বপ্নের কথাও বলেন তিনি। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বইবাজার.কম-কে গড়ে তুলবেন একটি বিশেষ কমিউনিটি হিসেবে সে কথা বলেন দোয়েল আক্তার।

উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বইবাজার.কমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, এই প্রাপ্তি বইবাজার.কমকে আরও সামনে এগিয়ে যেতে পথ দেখাবে।

অনুষ্ঠানে আরও যাদের সম্মাননা দেয়া হয় তাঁরা হলেন, মাসরাকা বিনতে মোশারফ, এমডি, ইকো মোনার্কি লি:, জয়া চাকমা, ফুটবল কোচ, বিকেএসপি, ফারজানা তন্নি, সিকিউরিটি ম্যানেজার, ওয়ার্ড ভিশন ইন্টারন্যাশনাল, নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি, সিঙ্গার, সাজিদা রহমান, চেয়ারম্যান, পিএফডিএ ট্রেনিং সেন্টার ট্রাষ্ট, কামরুন নেসা, এডিশনাল ডেপুটি পুলিশ কমিশনার, নাজনিন আহমেদ, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, বিআইডিএস, মুবিনা আসাফ, হেড অফ লিগ্যাল এন্ড এক্সটারনাল অ্যাফেয়ার, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, আনোয়ারা সাঈদ হক, লেখিকা এবং শাহিন আনাম, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মাসরুর আরেফিন এবং সঞ্চালন করেন দৈনিক সমকাল পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি।