→ আগামী ৩ দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর→ নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যের শপথগ্রহণ আজ→ সব সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা→ আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনসহ ঢাকার দুই স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ→ হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের নতুন প্রস্তাব
No icon

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে কঠিন লড়াইয়ে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ ভোটে নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। সর্বশেষ জনমত জরিপে প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের সঙ্গে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলকভাবে বেশি হাড্ডাহাড্ডি। নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়। মূল্যস্ফীতির হার কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম এখনো বেশি। জ্বালানি, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল থেকে শুরু করে খাবারের খরচ—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ অনুভব করছেন মার্কিন নাগরিকরা। এ পরিস্থিতির জন্য অনেক ভোটার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করছেন। বিশেষ করে শুল্কনীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে কম, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ শেয়ারবাজারের উত্থানে ভূমিকা রেখেছে। এতে অনেক মার্কিন নাগরিকের অবসরকালীন সঞ্চয়ের পরিমাণও বেড়েছে। 

তবে অর্থনীতির এসব সূচক সাধারণ মানুষের ব্যয়সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করতে পারছে না। কয়েক বছর আগের তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার কমলেও পণ্য ও সেবার দাম এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। ফলে দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন পরিবারগুলো। জরিপেও অর্থনীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে।

ট্রাম্প নিজে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও তাঁর অর্থনৈতিক নীতি ও প্রশাসনের কর্মকাণ্ড ভোটের মাঠে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের ফল কংগ্রেসে তাঁর দলের অবস্থান এবং প্রেসিডেন্সির বাকি দুই বছরের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।

নির্বাচনের আগের দিন সোমবারও প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করেছেন ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতারা। ওয়াশিংটনের লিঙ্কন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল এলাকায় প্রচার চালান ট্রাম্প। এর আগে রোববার তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমরা জিততে যাচ্ছি।’ ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে তাঁর দাবি, দলটি ক্ষমতায় এলে সাধারণ পরিবারগুলোকে দেউলিয়া করে দেবে।

অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তের প্রচারে সক্রিয় ছিলেন ডেমোক্র্যাট নেতারাও। টেক্সাসে দলটির সিনেট প্রার্থী জেমস টালারিকো এবং কানসাসের প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচার চালান তাঁরা। দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার।

সর্বশেষ জনমত জরিপে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। রয়টার্স-ইপসোসের এক জরিপে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ৪৬ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের পক্ষে ৩৮ শতাংশ ভোটারের সমর্থন দেখা গেছে। অর্থাৎ, ডেমোক্র্যাটরা আট শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে। কারণ, কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর নিয়ন্ত্রণও পাবে বিরোধী দল। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড, দুর্নীতির অভিযোগ এবং এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে তদন্তের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে রয়েছেন তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলা দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়াতে হবে।

এবারের নির্বাচনে আলাস্কা, মিশিগান, মেইন, ওহাইও, টেক্সাস ও কানসাসসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের লড়াই সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে এমন কিছু অঙ্গরাজ্যও রয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। ফলে এসব জায়গায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সিনেটের আসনসংখ্যার সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সঙ্গে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষ আলোচনায় রয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স দলীয় প্রার্থী এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে রজার্সের পক্ষে অবস্থান নেন। এতে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিভেদ প্রকাশ্যে আসে।

স্টিভেন্স এর আগে ডেমোক্র্যাট দলের প্রাথমিক নির্বাচনে এল-সায়েদের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। পরে রজার্সের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে তাঁর সঙ্গে একটি প্রচার অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। এ ঘটনায় দলটির নেতাদের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে স্টিভেন্সের এই অবস্থান পরিবর্তন নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে পাঠানো প্রায় ২০ হাজার ব্যালট আলাদা করে রাখার নির্দেশ চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের করা আবেদন সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করেছেন। প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, এসব ব্যালটের সঙ্গে যুক্ত ভোটারদের কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন।

এ ছাড়া আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সালিভানের সঙ্গে একই নামের একজন প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ওই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কি না, তা নিয়ে বিচার বিভাগ তদন্তে নেমেছিল। তবে এ ঘটনায় নির্বাচনের ফল কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এবারের নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটের ফলের ওপর নির্ভর করবে আগামী দুই বছর আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর কংগ্রেসের নজরদারির ক্ষেত্রে কোন দল কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এপি