রিফাত হত্যা মামলায় রায় আজ, আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদারকরোনার টিকা সংগ্রহে ৩০ লাখ ডলার দিচ্ছে এডিবিচলন্ত বাস থেকে ফেলে হত্যা, চোখের জলে বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাইলেন স্ত্রীশিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নির্ধারণ চেয়ে আইনি নোটিশশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত শিগগিরই
No icon

অনিশ্চিত ভোটারদের সামনে ট্রাম্পের ‘হ য ব র ল’ উত্তর

দলীয় সমাবেশ হোক বা সংবাদ সম্মেলন, সমর্থকদের কাছ থেকে চাটুবাক্য শুনতে ভালোবাসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কেউ সমালোচনা করলে বা মনের মতো প্রশ্ন না করলে তার ক্ষেপে যাওয়ার নজির আছে বহু। অনেকবারই কৌশলী প্রশ্নের মুখে বুদ্ধিদীপ্ত উত্তরের বদলে লেজেগোবরে অবস্থা পাকিয়েছেন এ রিপাবলিকান নেতা। অনেকটা একই অবস্থা হয়েছে মঙ্গলবার পেনসিলভানিয়ায় এবিসি নিউজের টাউন হল আয়োজনেও। এদিন ফিলাডেলফিয়ার ঐতিহাসিক ন্যাশনাল কনস্টিটিউশন সেন্টারে অনিশ্চিত ভোটারদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৯০ মিনিটের অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবিসি নিউজের জর্জ স্টেফানোপোলোস।

অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান এখনও কাকে ভোট দেবেন সিদ্ধান্ত না নেয়া ভোটাররা। স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় সবার শীর্ষে ছিল করোনাভাইরাস মহামারির ইস্যু। বরাবরের মতো এদিনও করোনা মোকাবিলায় নিজের দক্ষতার গুণগান গেয়েছেন ট্রাম্প। তবে ছেড়ে কথা বলেননি ভোটাররাও।

করোনাভাইরাসকে অবহেলা পেনসিলভানিয়ার অনিশ্চিত এক ভোটার ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, আপনি যদি বিশ্বাস করেন আমেরিকাকে রক্ষা করা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব, তাহলে মহামারিকে অবহেলা করলেন কেন?

এর উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি এটিকে অবহেলা করিনি। বরং অনেক সময় কাজের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।

কিছুদিন আগেই ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক বব উডওয়ার্ডের কাছে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, তিনি জনগণকে আতঙ্কিত করতে চাননি বলে ইচ্ছা করেই মহামারিকে গুরুত্বহীন বলেছেন। এ কথার রেকর্ডিংও রয়েছে উডওয়ার্ডের কাছে।

কিন্তু মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে সেই কথা অস্বীকার করে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে ট্রাম্প বলেন, আমি চীনের সঙ্গে কী করলাম, নিষেধাজ্ঞা দিলাম। ইউরোপের সঙ্গে, নিষেধাজ্ঞা দিলাম। যদি নিষেধাজ্ঞা না দিতাম তাহলে আরও কয়েক হাজার মানুষ হারাতে হতো।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা দেয়ার সময় আমরা খুবই ভালো কাজ করেছি। এটাকে আপনি প্রতিভা বলেন বা ভাগ্য, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছি।

হার্ড মেন্টালিটি? এক প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, করোনাভাইরাস এমনিতেই চলে যাবে, কোনও ভ্যাকসিনের দরকার হবে না। এ কথায় অবাক হয়ে সঞ্চালক জর্জ স্টেফানোপোলোস জিজ্ঞেস করেন, ভাইরাস ভ্যাকসিন ছাড়াই চলে যাবে?

ট্রাম্প বলেন, অবশ্যই, একটা সময় পর। আর আপনাদের মধ্যে হার্ড মেন্টালিটি (গুচ্ছ মানসিকতা) তৈরি হবে।

হার্ড মেন্টালিটি বলতে কী বুঝিয়েছেন তা জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, হার্ড ইমিউনিটি (দলবদ্ধ রোগপ্রতিরোধী ক্ষমতা) বলতে গিয়ে ভুল করে মেন্টালিটি বলে ফেলেছেন তিনি।

আমেরিকা মহান ছিল কবে? অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া এক ভোটার ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারণার স্লোগানে বলা হচ্ছে মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন অর্থা আমেরিকাকে আবারও মহান করো। কিন্তু আমেরিকায় যেখানে বর্ণবৈষম্য বিদ্যমান সেখানে দেশটি মহান ছিল কবে?

উত্তরে ট্রাম্প বলেন, আমাদের দেখতে হবে কোনটা মহান ছিল? আমার আশা, এখানে কোনও বৈষম্যের সমস্যা নেই। বলতে পারি, আমার মধ্যে এ সমস্যা নেই, কারণ সব বর্ণের মানুষের প্রতি, সবার প্রতি আমার প্রচুর সম্মান রয়েছে। সেটার জন্যই এই দেশ মহান।

বর্ণবৈষম্য কমবে কীভাবে? ভোটারদের পাশাপাশি ট্রাম্পকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেছেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালকও। যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রাণহানির ঘটনা পদ্ধতিগত বর্ণবৈষম্যের ফল কি না জানতে চান তিনি।

ট্রাম্প সরাসরি এর উত্তর না দিয়ে কিছুটা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে বলেন, সন্ত্রাস থামানোর ক্ষমতা আমাদের পুলিশদেরই দিতে হবে।

কিন্তু শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা তিনগুণ বেশি হওয়া কীভাবে থামাবেন? প্রশ্ন করেন জর্জ।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, তাদের (পুলিশ) সেকেন্ডের চারভাগের একভাগ সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কখনও কখনও তারা ভুল সিদ্ধান্ত নেন। সেটা একটা মারাত্মক বিষয়।

ডেমোক্র্যাট রাজ্যের প্রতি দায়িত্ব নেই? জর্জ স্টেফানোপোলোস প্রশ্ন করেন, আপনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েও বারবার ডেমোক্র্যাট-শাসিত শহর, ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্য বলেন কেন? ওইসব রাজ্য বা শহরের প্রতি কি আপনার কোনও দায়িত্ব নেই?

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোই খারাপ করছে। যদি নিউইয়র্কের দিকে তাকান, ইলিনয়েসের দিকে তাকান, তারা খুব খারাপ করছে তাদের এমন বিষয় রয়েছে যা রিপাবলিকানদের নেই, যেমন- সন্ত্রাস।

তিনি বলেন, আমি সবার প্রেসিডেন্ট। আমি বলতে চাই না, কিন্তু তারা ডেমোক্র্যাট-শাসিত শহর। তারা এমনই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ময়দান পেনসিলভানিয়া। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এ অঙ্গরাজ্যে দ্বিতীয়বারের মতো হাজির হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই জায়গায় আগামী বৃহস্পতিবার ভোটারদের মুখোমুখি হচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন।

সূত্র: ৬ এবিসি, ফিলাডেলফিয়া ইনকোয়ারার, আল জাজিরা