NEWSTV24
ইরান যুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধের আহ্বান সিনেটর ভ্যান হলেনের
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৫:১৬ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ইরান যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছেন দলটির সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারি তহবিল বরাদ্দে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, আগামী ১১ ডিসেম্বরের পর ইরান যুদ্ধের জন্য নতুন করে কোনো অর্থ বরাদ্দ করা উচিত হবে না।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ‘দ্য লেভার’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান হলেন এ অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামী ১১ ডিসেম্বর সরকারি ব্যয় নির্বাহের অস্থায়ী বরাদ্দের (কন্টিনিউয়িং রেজল্যুশন) মেয়াদ শেষ হবে। নতুন অর্থায়নের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের উচিত ইরান যুদ্ধের ব্যয় বন্ধের শর্ত দেওয়া। 

তিনি বলেন, ‘এটি একটি অবৈধ যুদ্ধ। করদাতাদের অর্থ যেন এই অবৈধ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ ভ্যান হলেন আরও বলেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান ঘটেছিল কংগ্রেসের অর্থায়ন বন্ধের মাধ্যমে। ইরান যুদ্ধ বন্ধেও কংগ্রেসকে একই ধরনের ভূমিকা নিতে হবে।

গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির দুই বছরের একক নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটেছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 

এদিকে, নির্বাচনে জয়ের পর সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা হিসেবে চাক শুমারকে আবারও সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন ভ্যান হলেন। শুমারকে পুনরায় ওই পদে সমর্থনের আগে দলের উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চান তিনি। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ বন্ধ এবং সরকারের নীতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন এই সিনেটর।

ভ্যান হলেনের এ অবস্থান ডেমোক্র্যাটদের নতুন নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধে আইন প্রণয়ন ও সরকারি ব্যয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে। তবে নতুন কংগ্রেসের মেয়াদ শুরু হবে আগামী ৩ জানুয়ারি। এর আগে ডিসেম্বরের বাজেট অনুমোদন ঘিরেই যুদ্ধের অর্থায়ন নিয়ে দুই দলের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বিরোধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।