NEWSTV24
অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা নিয়ে হাইকোর্টে শুনানি আজ
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে করা মামলার শুনানি শুরু হচ্ছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে। মঙ্গলবার থেকে দুই দিনব্যাপী এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে এমন নিষেধাজ্ঞা চালু করার পর এটিই হতে যাচ্ছে আইনের প্রথম বড় ধরনের আইনি পরীক্ষা।নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে যুক্তি তুলে ধরবে ডিজিটাল অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ডিজিটাল ফ্রিডম প্রজেক্ট। সংগঠনটির দাবি, এ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে শিশুদের মতপ্রকাশ ও অবাধ যোগাযোগের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটের করা পৃথক একটি মামলারও শুনানি হবে।গত বছরের ১০ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।নিষেধাজ্ঞার সমর্থকদের দাবি, এর ফলে শিশুরা ক্ষতিকর কনটেন্ট ও অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকবে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি সমস্যার কার্যকর সমাধান নয়। বরং অনলাইনে নিরাপত্তা বাড়ানো এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের দিকেই সরকারের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কয়েক সপ্তাহ আগে ডিজিটাল ফ্রিডম প্রজেক্ট হাইকোর্টে মামলাটি করে। সংগঠনটির নেতৃত্বে রয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলসের সংসদ সদস্য জন রুডিক।শুরুতে মামলাটির সঙ্গে যুক্ত দুই কিশোর নোয়া জোন্স ও ম্যাসি নেল্যান্ড পরে বাদী হিসেবে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। তবে মঙ্গলবার আদালতে জোন্সের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।গত বছরের নভেম্বরে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোন্স বলেছিল, অনলাইনে ক্ষতিকর বিষয়বস্তু রয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাই এর সমাধান হতে পারে না।তার ভাষায়, সরকারের জরিমানা এড়ানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর অর্থ ও সম্পদ ব্যয় না করে বরং অনলাইনে থাকা অপরাধী, শিশুদের প্রতি যৌন আগ্রহী ব্যক্তি এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট সরানোর কাজে সেগুলো ব্যবহার করা উচিত।

রেডিটেরও আপত্তি

শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্টে পৃথক মামলা করেছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিট। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ আইন ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও রাজনৈতিক অধিকারকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করছে।রেডিট জানিয়েছে, তরুণদের অনলাইনে নিরাপদ রাখার লক্ষ্যকে তারা সমর্থন করে। তবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেয়ে আরও কার্যকর উপায়ে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।প্রতিষ্ঠানটির প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা অ্যাডাম কলিন্স বলেন, আদালতে আইনটির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানালেও রেডিট অস্ট্রেলিয়ার আইন মেনে চলবে। পাশাপাশি তরুণদের সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে কাজ করবে তারা।অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস গত বছরের নভেম্বরে বলেছিলেন, সরকার কোনো আইনি হুমকিতে ভয় পাবে না। বিগ টেক প্রতিষ্ঠানগুলোর চাপের কাছেও সরকার নতি স্বীকার করবে না। অস্ট্রেলিয়ার অভিভাবকদের পাশে সরকার দৃঢ়ভাবে থাকবে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় ১০ প্ল্যাটফর্ম

অস্ট্রেলিয়ার নতুন আইন অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সীদের প্রবেশ ঠেকাতে ১০টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে যুক্তিসংগত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্ল্যাটফর্মগুলো হলো ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব, রেডিট, স্ন্যাপচ্যাট, এক্স, কিক, থ্রেডস ও টুইচ।আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে গুরুতর বা বারবার ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার জরিমানা করা হতে পারে। মার্কিন মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি ডলার। তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়নি।আইনটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে কথিত অনিয়মের অভিযোগে একাধিক তদন্ত শুরু করেছে।তবে হোয়াটসঅ্যাপ, রোবলক্স ও ডিসকর্ডের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত। একইভাবে ইউটিউব কিডস ও গুগল ক্লাসরুমের মতো শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মও ছাড় পেয়েছে।নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রথম কয়েক দিনে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডসের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছিল, তারা প্রায় পাঁচ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে।তবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিছু শিশু জানিয়েছে, আইন কার্যকরের আগে ও পরে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে অনেকেই দাবি করেছে, বয়স যাচাইয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি সহজেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, ছবিসহ পরিচয়পত্র কিংবা সেলফি দিয়ে বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থায় ফাঁকফোকর রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।