NEWSTV24
আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়, বিজয় দিবসে ভিত্তিপ্রস্তর
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

রাজধানীর আবদুল গনি রোডের সচিবালয় এবার স্থায়ীভাবে আগারগাঁওয়ে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে। দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে নানা সময়ে উদ্যোগ ও পরিকল্পনা হলেও এবার প্রথমবারের মতো বাস্তব কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরেই নতুন সচিবালয় নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করতে চায় সরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে আগারগাঁওয়ে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের বর্তমান মেয়াদেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও পুরো নির্মাণকাজ শেষ হতে পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় লাগতে পারে। তবে প্রথম ধাপে তিন বছরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয় নতুন সচিবালয়ে স্থানান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়।বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তর নিয়ে স্থাপত্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়। নতুন সচিবালয়ের সম্ভাব্য নকশার তিনটি বিকল্প প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়। নকশা দেখে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান স্থপতি। সভায় ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরুর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরির কাজও শুরু করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, হ্যাঁ, চূড়ান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চান তার মেয়াদেই কাজটি শেষ করতে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। ডিপিপি করতে কাজ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চান আসছে ডিসেম্বরে কাজটা শুরু করতে। এ সময়ের মধ্যে পারব কিনা জানি না, তবে আমরা শুরু করেছি।প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হবে। এতে তিন থেকে চারটি ভবন হতে পারে।স্থাপত্য অধিদপ্তর প্রধান স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া আমাদের সময়কে বলেন, স্থাপত্য অধিদপ্তর থেকে প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়েছে। আমরা তিনটি বিকল্প প্রস্তাব করেছি। যেখানে বাণিজ্য মেলা হয় সেই মাঠেই হবে নতুন সচিবালয়। প্রায় ৩২ একর জায়গার ওপর হবে। ৩০ লাখ বর্গফুট আয়তনের ওপর হবে সচিবালয়। সেখানে একটি ভবন চারদিকে ঘিরে হতে পারে আবার একটার পর একটা ভবন দিয়েও হতে পারে। শিগগিরই এই প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী সভা (একনেক) উঠবে। সেখানেই পুরো প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন।

সচিবালয় স্থানান্তরের প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদনের পর সেটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাবে গণপূর্ত অধিদপ্তর। যে নকশা প্রধানমন্ত্রীর সভায় নির্ধারিত হবে সেই নকশা অনুযায়ী নির্মাণ হবে নতুন সচিবালয়। কাজেই একনেক সভায় উপস্থাপন এবং অনুমোদন শেষে গণপূর্ত অধিদপ্তর টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরু করবেন। তাই প্রকল্পের ব্যয়টি এখনও নির্ধারিত হয়নি। ব্যয় এবং নকশার পুরো বিষয়টি একনেক সভায় চূড়ান্ত হবে।রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে সেক্রেটারিয়েট বা সচিবালয় আগারগাঁওতে স্থানান্তরের প্রথম উদ্যোগ ১৯৭৪ সালে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার বারবার উদ্যোগ নিলেও বাস্তবায়ন হয়নি। এবার প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের দৃঢ়তায় প্রথমবারের মতো ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সিদ্ধান্ত এবং তিন বছরের মধ্যে স্থানান্তর করার নির্দেশনায় সফলতার দিকে যাচ্ছে প্রকল্পটি। এর আগে শুধু সমীক্ষা ও উদ্যোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে ১৯৭৪ সালের পর ১৯৯৬-৯৭, ২০০৯, ২০১৫, ২০১৯ সালেও উদ্যোগ গ্রহণ করে তৎকালীন সরকার। তার মধ্যে ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি রোড থেকে আগারগাঁওয়ে দ্রুত সচিবালয় স্থানান্তরের নির্দেশনা দিলেও নানা জটিলতায় সেটি আর এগোয়নি। বারবার উদ্যোগ নিলেও লুই আই কানের মূল নকশা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

২০১৫ সালের প্রকল্পে ৩২ একর জমিতে সচিবালয় করার পরিকল্পনা হলেও একনেক জানতে চায়, সেটি যেন জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের লুই আই কানের মূল নকশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়। এরপর মূল নকশা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা হয়। ২০১৫ সালের প্রকল্পে যথাযথ প্রাক-সমীক্ষা না করা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জনবলের জন্য কত জায়গা দরকার তার হিসাব না থাকা এসব নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন আপত্তি তোলে। যার ফলে প্রকল্পটি আটকে যায়। তা ছাড়া শেরেবাংলা নগরে যে জায়গায় সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয় তার পাশেই ছিল গণভবন, যা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে জুলাই জাদুঘর। তখন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিযুক্ত সংস্থাগুলোর আপত্তি থাকায় উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে গণভবন এখন জুলাই জাদুঘর। তাই নিরাপত্তার ইস্যুটি এখন আর মুখ্য নয়।