NEWSTV24
স্লিপার বাস চলে ভুয়া নম্বর প্লেটে
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

আইনগত অনুমোদন না থাকলেও দেশে প্রায় সাত শ বিলাসবহুল ডাবল ডেকার স্লিপার বাস চলাচল করছে। সন্ধ্যা নামতেই মহাসড়কগুলোয় শুরু হয় এসব বাসের দাপট। রাজধানী থেকে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট কিংবা উত্তরবঙ্গসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে রাতভর ছুটে চলে স্লিপার বাস।বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাইরে থেকে আধুনিক ও বিলাসবহুল মনে হলেও এর কোনোটি সাধারণ সিঙ্গেল ডেকার বাসের নিবন্ধন নিয়ে বানানো হয়েছে দোতলা স্লিপার বাস। আবার কোনো কোনো বাসে লাগানো হয়েছে ভুয়া ও জাল নম্বরপ্লেট। বিআরটিএর খাতায় বাতিল (রাইট-অফ) হয়ে যাওয়া বাসের নম্বরও ব্যবহার করা হচ্ছে এসব বাসে।

কেস স্টাডি-১ : এস আই এন্টারপ্রাইজের মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৫৮৯৮। কিন্তু বিআরটিএর নথি বলছে, ২০১২ সালে এই নম্বরের বাসটির রেজিস্ট্রেশন হয়েছে চেয়ারম্যান, বিআরটিসি নামে, ৭২ সিটের সিঙ্গেল ডেকার অমনিবাস (সাধারণ বাস) হিসেবে।

কেস স্টাডি-২ : ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে চলাচলকারী সেন্টমার্টিন সৌহার্দ নামে আরেকটি স্লিপার বাসের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেটে লেখা ট্ট মেট্রো-ব-১১-২২৬২ । এই নম্বরটি বিআরটিএর ডাটাবেজে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। সেজুতি ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের মালিকানায় থাকা ঢাকা মেট্রো-ব-১২-১৮২২ নম্বরের বাসটিও চলাচল করছে ডাবল ডেকার স্লিপার বাস হিসেবে। বিআরটিএর ডাটাবেসে এই বাসটির রেজিস্ট্রেশন বলছে, এটি ৩৭ সিটের সাধারণ অমনিবাস। বাংলাদেশ প্রতিদিনের এ প্রতিবেদক অন্তত তিন দিন সরেজমিনে রাজধানীর আরামবাগ এলাকায় গিয়ে অধিকাংশ ডাবল ডেকার স্লিপার বাসে ডিজিটাল নম্বর প্লেট দেখতে পায়নি। নম্বর প্লেটের আদলে সবুজ রঙের স্টিকারে রং দিয়ে লেখা রয়েছে রেজিস্ট্রেশন নম্বর। মার্সেডিজ বেঞ্জের মতো বেশ কিছু বিলাসবহুল বাসও ডাবল ডেকারে রূপান্তর করার চিত্র দেখা গেছে। অনুসন্ধান বলছে, অবৈধ ও অননুমোদিত এসব বাসের ট্যাক্সটোকেন ও ফিটনেস সনদও নবায়ন নেই গত কয়েক বছর ধরে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে রূপান্তরিত এসব বাসে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

নামিদামি কোম্পানির ব্যানারে অবৈধ বাস : অবৈধ ও অননুমোদিত ডাবল ডেকার স্লিপার বাস চলাচল করছে অনেক নামিদামি কোম্পানির ব্যানারে। এ ছাড়া দেশের দূরপাল্লার রুটে সক্রিয় অসংখ্য ছোট-বড় বাস কোম্পানির ব্যানারে এসব অননুমোদিত ও ভুয়া নম্বরধারী স্লিপার বাস পরিচালিত হচ্ছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে একাধিক জনপ্রিয় ও বড় কোম্পানির নাম। এর মধ্যে রয়েছে-গ্রিন লাইন, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, দেশ ট্রাভেলস, সেন্টমার্টিন পরিবহন, সেন্টমার্টিন এক্সপ্রেস, সেন্টমার্টিন সৌহার্দ, লন্ডন এক্সপ্রেস, ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেস, আইকনিক এক্সপ্রেস, ইউরো কোচ, গ্রিন সেন্টমার্টিন, বেঙ্গল পরিবহন, এসপি গোল্ডেন লাইন, শাহ ফতেহ আলী, সোহাগ পরিবহন, পূর্বাশা পরিবহন, দোয়েল এক্সপ্রেস, এশিয়া এয়ারকন, রিলাক্স পরিবহন, লাল সবুজ পরিবহন, গোল্ডেন লাইন, রয়েল কোচ, রয়েল ট্রাভেলস, সেঁজুতি ট্রাভেলস, স্কয়ার ট্রাভেলস, পাবনা এক্সপ্রেস, যমুনা লাইন, কাতার ও নবাব এক্সপ্রেস।

ডাবল ডেকার রূপান্তরে ঝুঁকি কোথায় : সাধারণ সিঙ্গেল ডেকার বাসের কাঠামো পরিবর্তন করে দোতলা স্লিপার কোচ বানানোর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি বাসটির ভারসাম্য নিয়ে। এতে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া যেকোনো মোটরযানের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা, সিট বিন্যাস কিংবা মূল অবয়ব পরিবর্তন করা সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সম্পূর্ণ দন্ডনীয় অপরাধ। আইন লঙ্ঘনে জেল-জরিমানার বিধানও রয়েছে।

দেখেও না দেখার ভান পুলিশের : এসব বাসের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে বিআরটিএ কিছু ব্যবস্থা নিলেও পুলিশের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশের চোখের সামনে দিয়ে এসব বাস চলাচল করলেও দেখেও না দেখার মতো আচরণ তাদের। বিআরটিএর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব বাসের অনুমোদন তারা দেননি। অভিযান চালিয়ে অন্তত আটটি বাস তারা এরই মধ্যে জব্দ করেছেন। তবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় তাদের পক্ষে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এসব বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একাধিকবার পুলিশকে তালিকাসহ চিঠি দিয়েছেন তারা। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, এত সংখ্যক বাস ডাম্পিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অভিযান শুরু করা যাচ্ছে না।