কারাগারে বন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে সুর চড়াচ্ছে দলটি। আর এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার মাত্র ৩৭ বছর বয়সী সর্বকনিষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি।
আল জাজিরা প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলের কঠিন সময়ে পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান শক্ত রাখতে এবং নতুন করে জাতীয় রাজপথের আন্দোলন জোরদার করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছেন এই তরুণ নেতা। সম্প্রতি রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে 'লং মার্চ'-এর ঘোষণা দিয়ে তিনি এখন আলোচনার শীর্ষে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী ৪ অক্টোবর ইসলামাবাদ অভিমুখে চূড়ান্ত লং মার্চের ডাক দেওয়া হয়েছে, যাকে কেন্দ্র করে পুরো পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। ক্ষমতাসীন শাহবাজ শরিফ সরকার খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে রাজধানীতে প্রবেশের পথগুলো বন্ধ করতে শুরু করেছে এবং পিটিআই নেতাদের ওপর ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে। তবে সোহেল আফ্রিদি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "লং মার্চ হবেই। এটি কোনো আত্মসমর্পণ নয়, বরং আমাদের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ।" তিনি আরও হুশিয়ারি দেন যে, এই বিশাল জনস্রোত ইমরান খানের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবে না এবং ৫ অক্টোবর ইমরান খানের জন্মদিনে তাঁরা "বিজয়ের দিন" উদযাপন করবেন।
উল্লেখ্য, অত্যন্ত সাধারণ ও উপজাতি পটভূমি থেকে উঠে আসা সোহেল আফ্রিদি মাত্র ৩৭ বছর বয়সে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে কারাবন্দি ইমরান খানের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ের ছাত্র রাজনীতি (ইনসাফ স্টুডেন্টস ফেডারেশন) থেকে উঠে আসা আফ্রিদির রাজপথের লড়াকু মনোভাব এবং সরকার পরিচালনায় কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা তাঁকে পিটিআইয়ের অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত করেছে।
ইমরান খানের আইনি সব পথ প্রায় রুদ্ধ হয়ে আসায় এখন রাজপথের আন্দোলনকেই প্রধান হাতিয়ার করছে পিটিআই। আর সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুক্তি নিশ্চিত করতে পারেন কি না সোহেল আফ্রিদি, এখন সেটিই দেখার বিষয়।