NEWSTV24
ইতালির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বোরকা ও নেকাব পরিধান নিষিদ্ধ : জর্জিয়া মেলোনি
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:১৭ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

ইতালির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বোরকা ও নেকাব পরিধান নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ডানপন্থী সরকার। সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, রাজনীতি ও আগামী নির্বাচনের উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে বাস্তব কোনো সংকট নেই।

সম্প্রতি মেলোনির দল 'ব্রাদার্স অব ইতালি' (FdI)-র এক সমাবেশে স্কুলে মুখ ঢেকে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এই সিদ্ধান্তকে "নারীর সমতা ও নিরাপত্তার প্রয়াস" হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, "ইতালিতে কোনো ঐতিহ্য বা ধর্মের নামে একজন তরুণীকে নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখতে বাধ্য করা যাবে না।"

তবে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালির মিলানের আল-ওয়াহিদ মসজিদের ইমাম ও ইসলামিক স্কলাররা বলছেন— এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসলে একটি 'ভুয়া সমস্যা' তৈরি করার চেষ্টা।

মিলানের আল-ওয়াহিদ মসজিদের ইমাম ইয়াহিয়া পাল্লাভিচিনি বলেন, "এটি সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশের চর্চাকে লক্ষ্য করে সার্বিক মুসলিম সমাজ সম্পর্কে একটি ভুল ধারণা তৈরির চক্রান্ত। এতে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তোলার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।"

অন্যদিতে মিলানের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক মুলাইকা লরা এনরিয়েলো বলেন, "আমার দীর্ঘ শিক্ষাকথা জীবনে কোনো ছাত্রীকে স্কুলে বোরকা বা নেকাব পরে আসতে দেখিনি। এটি কোনো বাস্তব সমস্যা নয়। যে মেয়েরা হিজাব পরে, তারা তা স্বাভাবিকভাবেই পরে—কেউ তাদের বিরক্ত করে না।" তথ্য অনুযায়ী, পুরো ইতালিতে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ জন ছাত্রী পূর্ণাঙ্গ মুখ ঢেকে স্কুলে আসে।

রাজনৈতিক মেরুকরণের কৌশল?
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখেই ডানপন্থী ভোটারদের ধরে রাখতে মেলোনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। সম্প্রতি দেশটির সাবেক জেনারেল রবার্তো ভান্নাচ্চির চরম ডানপন্থী 'ন্যাশনাল ফিউচার' দল জনমতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করায় মেলোনি নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান দেখাচ্ছেন।

লুইস (LUISS) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ লরেঞ্জো কাস্তেলানি বলেন, "মেলোনি মূলত রক্ষণশীল ভোটারদের বার্তা দিতে চাচ্ছেন। কট্টর ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীদের রুখতে তিনি ইসলাম ও জাতীয় পরিচয়কেন্দ্রিক বিষয়গুলোকে রাজনীতিতে সামনে নিয়ে আসছেন।"

উল্লেখ্য, ইতালির সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং জননিরাপত্তার বিষয়ে আইনি ভারসাম্য রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞাটি সংসেদ এবং আদালতের আইনি পরীক্ষার মুখোমুখি হতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।