NEWSTV24
‘চাকসুর মেয়াদ আর ২৮ দিন, এরপর পিটিয়ে বের করে দেব’
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৯ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) মেয়াদ আর মাত্র ২৮ দিন আছে উল্লেখ করে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) রিপুল চাকমাকে পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক নাছিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে শোনা যায়, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হলের ভিপিকে বলছেন, চাকসুর মেয়াদ শেষ হলে তাকে পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেবেন।গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হলটির একটি কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগ পেয়ে হল প্রশাসনের এক শিক্ষক ও হল সংসদের কয়েকজন সদস্য সেখানে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন রিপুল। তবে নাছিম উদ্দিনের দাবি, তাকে গালি দেওয়ার পরই তিনি ওই হুমকি দেন।হল সংসদ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৩১৩ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগ পেয়ে হলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলমসহ হল সংসদের কয়েকজন সদস্য সেখানে যান। তবে কক্ষে অবৈধভাবে কোনো শিক্ষার্থী থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়।

রিপুল চাকমার অভিযোগ, একপর্যায়ে নাছিম উদ্দিন তাকে লক্ষ্য করে বলেন, চাকসুর মেয়াদ গুনে গুনে ২৮ দিন আছে, এরপর পিটিয়ে বের করে দেব।ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনায় রিপুল চাকমা বলেন, গতকাল আমি দেখি কয়েকটি জিনিসপত্র নিয়ে একজন শিক্ষার্থী হলে আসে এবং বলে, সে ৩১৩ নম্বর কক্ষে উঠেছে। এ নিয়ে আমি গ্রুপে কথা বলি। পরে স্যারসহ আমরা সেখানে যাই। একপর্যায়ে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়।তিনি আরও বলেন, এই রুম নিয়ে আগে থেকেই ঝামেলা রয়েছে। বিশেষ বিবেচনায় সিট দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক রুমে চারটি করে সিট থাকলেও সেখানে পাঁচটি সিট নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রার্থনা কক্ষ থেকে একটি সিট নিয়ে সেখানে দেওয়া হয়েছে। সিট বরাদ্দের সময় রুম খালি রেখে ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে রুম দেওয়া হয়েছে।

তবে গালি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি কক্ষে কাউকে গালি দিইনি।অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা নাছিম উদ্দিন বলেন, আমি তাকে বললাম, আমাদের রুম নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিতে পারিস না। তখন তিনি বলেন, এটা তার অধিকার। আমাকে গালি দিলে আমি তখন তাকে হুমকি দিই। আমাকে গালি দেওয়ার জন্য তাকে ভিপি বানানো হয়নি। আমি হুমকি দিয়েছি, তবে আমাকে গালি দেওয়ার পরই বলেছি।ঘটনার বিষয়ে হলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ৩১৩ নম্বর কক্ষে যাই। কিন্তু কক্ষে যারা থাকেন, তারা জানান, অবৈধ কেউ নেই; তারা অতিথি ছিলেন, ঘুরতে এসেছিলেন। এরপর কথা-কাটাকাটি হয়।এ বিষয়ে চবির সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম বলেন, একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ হলের একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। তবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে যা হয়েছে, অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।