NEWSTV24
আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে জোর প্রধানমন্ত্রীর
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৪ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননসহ দেশের জ্বালানি খাতে আরও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরন। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শেভরনের বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশবিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে শেভরনের বিনিয়োগ আগ্রহকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।তিনি জানান, বৈঠকে দেশের বিদ্যমান ও পুরনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনের সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ংসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ে বৈঠক : এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন করতে সিঁড়ি দিয়ে ছয় তলায় উঠলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বলেন, বিকাল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মসূচি ছিল সচিবালয়ের ৪নং ভবনের ৬ তলায় কৃষি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন এবং সেখানে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক। প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের দপ্তর থেকে বেরিয়ে ৪নং ভবনে হেঁটে যান এবং সেখানে সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে ছয়তলায় উঠেন। লিফট প্রস্তুত থাকলেও প্রধানমন্ত্রী সিঁড়ি দিয়ে উঠেন। ছয়তলায় ওঠার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আমির উর রশীদ। বৈঠক শেষে উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌল্লা জানান, দেশে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যেসব কৃষিপণ্য দেশে উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তাগিদ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে হবে।

বৈঠকে কৃষি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয় বলে জানান উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌল্লা। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষার উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।উপ প্রেস সচিব বলেন, পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। কৃষকের পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু নতুন ফসলের জাত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

উপ প্রেস সচিব বলেন, কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন ফসলের মোট ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত ১৫৫টি। এ ছাড়া এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্য বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। কৃষি উৎপাদনে শ্রম ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষিযান্ত্রিকীকরণে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে আসে বৈঠকে। দেশীয় কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারসহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র কৃষকের কাছে সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগও তুলে ধরা হয় বলে জানান মো. সুজাউদ্দৌল্লা। তিনি জানান, দেশে মোট ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচ বাড়ানো গেলে কৃষকের সেচব্যয় ও প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।উপ প্রেস সচিব বলেন, কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড কর্মসূচিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। কৃষি মন্ত্রণালয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।

বৈঠকে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, সৌর সেচ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দিকে নজর দিতে বলেন।উপ প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব— এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমাতে হবে। এ জন্য গবেষণা, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিয়ে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে আরও জোর দিতে হবে।বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী আমির উর রশিদ ও কৃষি সচিব সেলিম খানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।