বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন নবম পে কমিশন এর সাথে সাথে বাজার উর্ধ্বমুখি হচ্ছে সরকারি বেতন বাড়লেও নির্ধারিত হয়নি শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি,
গতকাল বুধবার( ৯ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন (বাজাফে-০৮)-এর উদ্যোগে আয়োজিত দ্বি-মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে শ্রমিকদের মজুরি, কর্মসংস্থান, শিল্পকারখানায় গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং শ্রমিক ছাঁটাইসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও এর সুফল সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ সমানভাবে পাচ্ছেন না। সাম্প্রতিক সময়ে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। অথচ তাদের আয় সেভাবে বাড়ছে না।
তিনি বলেন, সরকার প্রায় ৫০টি পেশা বা সেক্টরে মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। দেশে সব শ্রমিকের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ন্যূনতম মজুরির মানদণ্ডও থাকা দরকার।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিন বছর আগে তাদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন করে মজুরি নির্ধারণের সময় হয়ে এলেও এখনো মজুরি বোর্ড গঠনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। মজুরি বোর্ড গঠন করে মালিক, শ্রমিক ও সরকার পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগে। তাই দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।
শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন সংকট ও দুর্যোগে শ্রমিকরা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই তাদের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের দায়িত্ব।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের সব শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গাজীপুরে ৬৫০ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি উদ্বেগজনক। বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনাও বন্ধ করতে হবে।
কৃষি খাতের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। বর্তমানে কৃষিকাজের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম চলছে। এ সময়ে অন্যান্য সংকটের সাথে সার সংকটের কারণে কৃষকরা সমস্যায় পড়ছেন। দেশের নিজস্ব সার কারখানা গুলোর উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষি খাতের প্রয়োজন মেটাতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে সংকট থাকবে, তা মোকাবিলার সক্ষমতা সরকারের থাকতে হবে। সংকটের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো দক্ষ সরকারের কাজ হতে পারে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শ্রমিকের সমস্যা ও সংকট যতদিন থাকবে, ততদিন তাদের পাশে থেকে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে ফেডারেশন। শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সফলতা আসবে, ইনশাআল্লাহ।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লসকর মো. তসলিমের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রাব্বানী, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক নুরুল আমিন, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠুসহ কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা।
বার্তা প্রেরক
আতাউর রহমান
সিনিয়র রিপোর্টার