NEWSTV24
প্রার্থী ঠিক করে মাঠে জামায়াত, সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিএনপি
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬ ১২:১৩ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচন কবে হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতায় নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি প্রার্থী ঠিক করে মাঠ পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, বিএনপিতে আছেন অর্ধডজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। তারা সবাই বলছেন, দল যাকেই মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষে একজোট হয়ে কাজ করবেন।গত সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর কাছে ২৮ হাজার ১৭৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এবার হচ্ছেন মেয়র প্রার্থী। তিনি নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে কাজ শুরু করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তাদের তৎপরতা আছে। তারা বলছেন, অতীতের ভুল সংশোধন করে এবার ভিন্ন কৌশলে কাজ করবেন।অনেকেই মনে করছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে না থাকলে তাদের ভোট টেনে লাভবান হবে জামায়াত। গত জাতীয় নির্বাচনে তারা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট পেয়েছে। তবে দলটির পক্ষে স্বতন্ত্র কেউ থাকলে লাভবান হবে বিএনপি।

সিটি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন দাবিদার হিসেবে আছেন সাবেক মেয়র ও দলের কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বর্তমান রাসিক প্রশাসক ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, নগর বিএনপির সহসভাপতি ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শহীন শওকত, নগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শফিকুল আলম সমাপ্ত ও নগর যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি।২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন রাসিক মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেবার পরাজিত হন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এর পর ২০১৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট করে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও বিজয়ী হয়েছিলেন বুলবুল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে খায়রুজ্জামান লিটনের কাছে আবারও পরাজিত হন তিনি। এসব কারণে দলটির একটি বড় অংশ মনে করে, এবার সিটি নির্বাচনে বুলবুল প্রধান দাবিদার। তবে বিএনপি সরকার গঠনের পর বুলবুলকে রাসিক প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেয়নি। তাঁকে করা হয়েছে বাংলাদেশ বন ও শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এদিকে জামায়াত প্রার্থী ঠিক করে রেখেছে। নির্বাচন কমিশন যতক্ষণ শিডিউল ঘোষণা না করবে, ততক্ষণ এটা কেউ করতে পারে না। এখন গরিব ভোটারদের তালিকা করে বেতন দেবে। তারা ঘুষ দিয়ে ভোট কিনবে। বিএনপিতে পাঁচ থেকে সাতজন সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।ছাত্রদল ও যুবদলে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন শেষে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হন মাহফুজুর রিটন। রাসিক প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়া রিটন বলেন, দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই আমার সিদ্ধান্ত। আমি নিজের জন্য এবং দলের জন্য সব সময় প্রস্তুত আছি।নগর বিএনপির সহসভাপতি ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই আসনটি সব সময় বিএনপির। গত সংসদ নির্বাচনে একটা দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে ভোট বাড়িয়েছিল। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে নিশ্চিত বিজয়ী হবো। প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল হলে সমস্যা হবে।প্রার্থিতা নিয়ে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শহীন শওকতের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন রাজপথে আছি। অনেকেই আমাকে সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। দল যাকেই মনোনয়ন দিক, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব।

ভিন্ন কৌশলে জামায়াত

জামায়াতে ইসলামীর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, গত ১১ আগস্ট দলীয় ফোরামে প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনীত করা হয়েছে। দলীয় পর্যায়ে আমরা কাজ করছি। জনগণের সামনে এখনও যাচ্ছি না। তিনি আরও বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে এই আসনে খুব অল্প ব্যবধানে আমরা পরাজিত হয়েছি। এই আসনে আমরা গত ৪০ বছর বিএনপির সঙ্গে ভোট করেছি। জোটের কারণে সব সময় বিএনপির মিনু ভাইয়ের (মিজানুর রহমান মিনু) ভোট করতাম। তাঁর বিরুদ্ধে আলাদাভাবে ভোট করতে গিয়ে আমাদের কিছু ভুল- ভ্রান্তি ছিল। সিটি নির্বাচনে সেই ভুলগুলো আমরা সংশোধন করে কাজ করব।

সবার আগে প্রার্থী বাছাই করেছে এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে সবার আগে। গত মার্চ মাসে দলটির মহানগর শাখার আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীকে সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বাছাই করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাশ্বের আলী বলেন, আমরা মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছি। উঠান বৈঠক করছি। এতে কোনো বিধিনিষেধ আছে বলে জানা নাই।