NEWSTV24
এস এস সির ফলে ধ্বস, কী বলছে মন্ত্রণালয় ?
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৮ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

প্রায় দেড় যুগের মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার দেখা গেল এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায়।এ ফলকে কেউ কেউ বিপর্যয় বললেও সরকার বা শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেখছেন স্বাভাবিক হিসেবে। গত দেড় যুগের ফলকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছে দাবি করে সরকারের ভাষ্য, এবার মন খুলে নম্বর দেওয়ার প্রবণতা ছিল না।তবে ইংরেজি ও গণিতের মতো আবশ্যিক বিষয়ে খারাপ করাকেও পাসের হার কমে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে সামনে আনছেন তারা।অন্যদিকে শিক্ষকরা মনে করছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বদলে যাওয়া পরিস্থিতি, নবম ও দশম শ্রেণিতে আলাদা শিক্ষাক্রমে পাঠদান, পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারি বাড়ানো এবং ডিভাইস আসক্তির মতো বিষয় এবার পাসের হার কমে যাওয়ার পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।অযাচিত নম্বর না দেওয়ার যে ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রী দিয়েছিলেন, তার প্রভাবও ফলে কিছুটা পড়েছে বলে মনে করছেন কোনো কোনো শিক্ষক।এবার পরীক্ষায় বসেছিলেন মাধ্যমিকের সোয়া ১৮ লাখ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেন ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

স্কুলের গণ্ডি পেরনো এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন, যা পাস করা শিক্ষার্থীর ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ।গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন। আর গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট।গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা ছিল ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।এর আগে পাসের হার ৬২ শতাংশের নিচে নামে ২০০৭ সালে। সেবার গড় পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।দেশে মাধ্যমিক পরীক্ষায় গড় পাসের হার সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ২০২১ সালে; ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ।এবারের পরীক্ষায় পাসের হারে সবচেয়ে কম মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে; ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি পাস করেছে ঢাকা বোর্ডে; ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ।আর জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বরিশাল বোর্ড। সেখানে ২ হাজার ৭৭৮ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছেন। সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ঢাকা বোর্ডে এ সংখ্যা ৩৩ হাজার ২৫৩।

ফল স্বাভাবিক, বলছে শিক্ষা বোর্ডগুলো

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছে শিক্ষা বোর্ডগুলোর মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সোমবার বিকালে গণমাধ্যমকে বলেন, এবারের পরীক্ষার ফলকে আমরা স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছি।পাসের হার বিগত বছরগুলোর চেয়ে কম হওয়ায় অনেকে মনে করছেন ফল খারাপ হয়েছে। তবে এমনটি নয়। এবারের পরীক্ষায় উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।তিনি বলেন, যেহেতু আগের সরকার একটু উল্টাপাল্টা মার্কিং করছে; পাসের হার বাড়িয়ে দেখিয়েছে; তাই এমনটি মনে হতে পারে। তবে আমার মনে হয়, এবারের ফল ঠিক আছে। আশা করছি পাসের এ হার আগামী বছরগুলোতেও বহাল থাকবে।

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল খারাপ হয়নি বলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।তার ভাষায়, সুন্দর ফল হয়েছে। এবার যে যে নম্বর পেয়েছে, সেটাই দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনের ভাষ্য হলো, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল তৈরি করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও দক্ষতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ভিত্তিতে।শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে পাসের হার কিংবা জিপিএ ৫ বাড়ানোর যে সংস্কৃতি চালু ছিল, বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে।

গণিত ও ইংরেজি অকৃতকার্য হওয়ায় পাসের হার কম

এবছর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং গণিতে ৮২ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।যশোর শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে ৭১ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং গণিতে ৮৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে ৮১ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং গণিতে ৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।এছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ইংরেজিতে ৭২ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং গণিতে ৮০ দশমিক ০৫ শতাংশ; রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে ৭৪ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং গণিতে ৭৭ দশমিক ১৭ শতাংশ পাস করেছে।বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে ৬৯ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং গণিতে ৭৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ; দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে ৭২ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং গণিতে ৭১ দশমিক ০৫ শতাংশ; সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে ৬৯ দশমিক ১১ শতাংশ এবং গণিতে ৭৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজি ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং গণিতে ৬৯ দশমিক ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।ইংরেজিতে ৭৯ দশমিক ২১ শতাংশ এবং গণিতে ৬৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ পাস করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে ইংরেজিতে ৯৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং গণিতে ৭০ দশমিক ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামের মতে এবারের পরীক্ষায় গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে ফেল বেশি থাকায় এবার পাসের হার কিছুটা কমেছে।