NEWSTV24
যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ পাচ্ছেন না ট্রাম্প, উভয় সংকটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট
শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬ ১২:৩০ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ালেও সেখান থেকে বেরিয়ে আসার স্পষ্ট কোনো পথ পাচ্ছেন না তিনি।মাত্র কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধ শেষ করার যে দাবি ট্রাম্প শুরুতে করেছিলেন, সেখান থেকে সরে এসে চলমান কূটনৈতিক চেষ্টা ও হুমকি-পাল্টা হুমকির মুখে তিনি এখন চরম উভয় সংকটে পড়েছেন।একদিকে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, যার ফলে যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের যে কর্তৃত্ব ছিল না, তাও তারা পেয়ে যেতে পারে।অন্যদিকে, ট্রাম্পের সামনে রয়েছে নতুন করে সামরিক হামলা জোরদার করার হুমকি বাস্তবায়নের সুযোগ, যা সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি প্রথম পথটি বেছে নেন, তবে যুদ্ধ শুরুর পর এটি হবে ইরানের সবচেয়ে বড় জয়। এর মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করার আনুষ্ঠানিক অধিকার পেয়ে যাবে ইরান।

অথচ এই প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্ব আটকানোর অঙ্গীকার করেই যুদ্ধে নেমেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।দ্বিতীয় পথ, অর্থাৎ নতুন করে বিমান হামলা শুরু করা ট্রাম্পের জন্য নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।এর আগের বিমান হামলাগুলো তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে হামলা চালিয়ে সফল হওয়ার কোনো নিশ্চয়তাও নেই।ট্রাম্প চাইলে চলমান এই অস্বস্তিকর স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে পারেন। যার অর্থ দাঁড়াবে, ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি থাকবে এবং কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হলে সময়ে সময়ে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাবে মার্কিন বাহিনী।তবে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার যে পূর্বাভাস ট্রাম্প দিয়েছিলেন, এই পথ বেছে নিলে সেখান থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার কোনো উপায় থাকবে না।ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করা পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক মধ্যস্থতাকারী অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ট্রাম্পের সামনে থাকা সব বিকল্পই খারাপ। তবে তিনি হয়ত বুঝতে পেরেছেন যে এই যুদ্ধ অনির্দিষ্টকাল ধরে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। পরিস্থিতি সামলাতে কাউকে না কাউকে ছাড় দিতেই হবে, আর তা হয়ত হবে প্রণালিতে ইরানের নতুন বাস্তবতা মেনে নেওয়া।তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, যে কোনো সাময়িক নৌপথ হতে হবে সম্পূর্ণ বাধাহীন, যেখানে কোনো একক পক্ষের তদারকি থাকবে না।মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জোর দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং ইরানের কোনো শুল্ক বা নিয়ন্ত্রণ সেখানে চলবে না।তবে মার্কিন বাজারে তেলের চড়া দাম, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হ্রাস এবং আমেরিকার জনগণের যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের কারণে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গা সংকুচিত হয়ে এসেছে।