NEWSTV24
Donald Trump ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের ঘরোয়া রাজনীতিকে জটিলতায় ফেলেছে
বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ ১৬:৪২ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

বারবার হুমকি ও সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ইরানের যুদ্ধটি এক রাজনৈতিকভাবে কঠিন মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচিকে জটিলতার মুখে ফেলেছে। একদিকে, আমেরিকানরা জ¦ালানী তেলের ক্রমবর্ধমান চড়া মূল্যের সম্মুখীন, অন্যদিকে, কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা এমন একটি অজনপ্রিয় যুদ্ধের অর্থায়ন ও প্রতিরক্ষার জন্য চাপের মুখে পড়েছেন, যার অনুমোদনে তারা কখনও ভোট দেননি। 

ট্রাম্প এ সপ্তাহে মার্কিন পশ্চিম উপক‚ল জুড়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে চলেছেন। সেখানে তিনি অর্থনীতি নিয়ে কথা বলবেন এবং জনগণের কাছে তাঁর কর্মসূচি তুলে ধরবেন। কিন্তু, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে, জনমত জরিপগুলো এমন একটি সংঘাতের প্রতি জনসমর্থন হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা শেষ হওয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই।

এএএ মোটর ক্লাবের মতে, সোমবার জাতীয় পর্যায়ে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪.১০ ডলারে পৌঁছেছে, যা ফেব্রæয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৩৭ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। এই মূল্যবৃদ্ধি ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতির কারণে সৃষ্ট জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যা ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেই ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছেন যে এই সংঘাতের কারণে তেলের দাম প্রত্যাশার চেয়ে কম রয়েছে এবং ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে ইরান যুদ্ধ শেষ হলে পেট্রোলের দাম প্রচÐভাবে পড়ে যাবে। সোমবার, তিনি তেল প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দোষ চাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন যে তাঁর নীতির কারণে তারা রেকর্ড মুনাফা করেছে। সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট ও ওভাল অফিসে বক্তব্যে তিনি শেভরন ও এক্সন-এর রেকর্ড মুনাফার কথা উল্লেখ করে তাদেরকে ভোক্তাদের জন্য দাম কমানোর আহŸান জানান। 

আধুনিক যুগে জনসমর্থন ছাড়া দেশকে যুদ্ধে নেওয়া একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট তিনিই। সাম্প্রতিক কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয় জরিপে ৬০ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে সিএনএন/এসএসআরএস জরিপে ৭৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক, যার মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ রিপাবলিকানও রয়েছেন, বলেছেন আর্থিক ব্যয় ও মার্কিন হতাহতের দিক থেকে এই যুদ্ধ সার্থক ছিল না।

যদিও ট্রাম্প আমেরিকাকে যুদ্ধ থেকে দূরে রাখার প্রতিশ্রæতি দিয়ে ক্ষততায় এসেছিলেন, এই সংঘাত তার প্রতিশ্রæত ‘৪ থেকে ৫ সপ্তাহ’ ছাড়িয়ে গেছে এবং এতে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তিনি এই দুর্ভোগকে সাময়িক বলে অভিহিত করেছেন এবং ভিয়েতনামের মতো যুদ্ধের হতাহতের সংখ্যার সঙ্গে তুলনা করে সৈন্যমৃত্যুর ঘটনাকে লঘু করে দেখিয়েছেন। এমনকি, সোমবার, তিনি প্রতিক‚ল জনমত জরিপকে ‘উগ্র বামপন্থীদের ভুয়া জরিপ সংখ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প যুদ্ধ শুরু করেন। পরে যুদ্ধের জন্য আরও কয়েকশ’ কোটি ডলার অর্থায়নের অনুরোধ আসায় বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। গত সপ্তাহে সিনেটের রিপাবলিকানরা তাঁর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব নাকচ করলেও, কয়েক দিন পর অনেকেই স্বীকার করেন যে সংঘাতের ভবিষ্যৎ দিক নিয়ে তারা নিশ্চিত নন। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা শুরু করলে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন গত মাসে বলেন, ‘আমাদের এর সমাপ্তি টানতে হবে।’

লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর জন কেনেডি রোববার এনবিসি-এর ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের আবার নতুন করে বোমা হামলা শুরু করা উচিত কি না, আমি জানি না, কারণ আমার কাছে সামরিক গোয়েন্দা তথ্য নেই। এটাও একটি সমস্যা, কারণ এটি অনেক দুর্ভোগের কারণ হবে। এর ফলে জ্বালানির দাম বাড়বে এবং আমেরিকান জনগণের জন্য ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি ঘটবে। এগুলো সবই ভয়াবহ সিদ্ধান্ত।’ 

প্রচারণার ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। মেইনে, ডেমোক্র্যাটদেও অন্যতম প্রধান সংগঠন ‘মেজরটি ফরোয়ার্ড’ বিজ্ঞাপনের জন্য ১৫ লাখ ডলারেরও বেশি খরচ করেছে, যেখানে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি ট্রাম্পকে যুদ্ধের জন্য একটি ‘বø্যাঙ্ক চেক’ দিয়েছেন।