NEWSTV24
গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ ০৯:২০ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

তীব্র গরমের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট একসঙ্গে প্রকট হয়ে ওঠায় দেশজুড়ে জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানা, পরিবহন, সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহক সবখানেই তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। কোথাও দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও ২০ থেকে ২৫ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৪০ মেগাওয়াট। ওই সময়ে লোডশেডিং হয় ২ হাজার ৫৭৭ মেগাওয়াট। তবে শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ছিল। এ সময় সরকারি হিসাবেই তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়। রাত ১টায় ঘাটতি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াটে পৌঁছায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সংকটের মূল কারণ গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়া। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক প্রধান প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। রোববার বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস পাওয়া গেছে মাত্র ৬৮ কোটি ঘনফুট। ফলে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।


এই সংকটের পেছনে রয়েছে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালের দুর্ঘটনা। গত ২১ জুলাই ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২১৫ কোটি ঘনফুটে, যা ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটির মেরামতের কাজ চলছে। তবে কবে নাগাদ তা চালু হবে, এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পেট্রোবাংলা।এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিল্পাঞ্চলে। গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লার গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলোতে প্রয়োজনীয় চাপের বদলে মাত্র ২ থেকে ৩ পিএসআই গ্যাস মিলছে। অথচ স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ১৫ পিএসআই। ফলে টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, স্পিনিং ও সিরামিক কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অনেক কারখানা দিনে উৎপাদন বন্ধ রেখে রাতে কাজ চালানোর চেষ্টা করছে। সময়মতো রপ্তানি পণ্য পাঠাতে না পেরে উদ্যোক্তারা অতিরিক্ত ব্যয়ে বিমানপথে পণ্য পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে ডিবিএল গ্রুপের সব পোশাক কারখানা। কারখানার শ্রমিকদের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেএমইএ ও বিটিএমএ অবিলম্বে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহনেও। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেক চালক রাতভর অপেক্ষা করেও মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার গ্যাস নিয়ে ফিরছেন। ফলে সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাসের সংখ্যা কমে গেছে। যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।আবাসিক গ্রাহকদের অবস্থাও একই রকম। দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছে। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার শুরু করলেও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সেটিও কার্যকর সমাধান হয়ে উঠছে না। ফলে একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।