বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কুয়েতের হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ভবনগুলো থেকে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির সরকারি কর্তৃপক্ষের পরিচালিত এ অভিযানের পর উচ্ছেদ হওয়া প্রবাসীদের জন্য হাসাবিয়া এলাকায় একটি সরকারি বিদ্যালয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নেয়া হয়েছে।
কুয়েত সরকারের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ওই আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার, পানীয় ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
দূতাবাসের কাউন্সেলর ও মিশন প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং শ্রম কল্যাণ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সেলর শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা প্রবাসীদের বর্তমান পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে দূতাবাসের প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী কুয়েতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক ও মতবিনিময় করেন। এ সময় কুয়েতি কর্মকর্তারা চলমান অভিযানের উদ্দেশ্য ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে দূতাবাসের প্রতিনিধিদের অবহিত করেন।
.কুয়েতি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করে সেগুলো অপসারণের পাশাপাশি অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতে কুয়েতের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে।
অভিযানে সরিয়ে নেওয়া প্রবাসীদের মধ্যে যাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, যাচাই-বাছাই শেষে তাদের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, তাদের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নির্বাসন কেন্দ্রের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
.এদিকে, উচ্ছেদের কারণে সাময়িকভাবে গৃহহীন হয়ে পড়া বৈধ অবস্থানকারী ব্যক্তি ও পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকালে তাদের কর্মস্থলে যোগদান কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে কেন্দ্রের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
চলমান পরিস্থিতিতে কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে প্রত্যেককে নিজের আবাসন ও কুয়েতে অবস্থানের বৈধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, বাইরে চলাচলের সময় প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে অবশ্যই কুয়েতের বৈধ নাগরিক পরিচয়পত্র বা সিভিল আইডি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরিচয়পত্র রাখা উচিত। সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রবাসীদের কুয়েতি আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলারও আহ্বান জানানো হয়েছে।