NEWSTV24
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা ইসির
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সংশোধন আনার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে প্রয়োজন হলে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা যায়।ইসি সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই কমিশনের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সংশোধনীর খসড়া ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চূড়ান্ত করা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় সশস্ত্র বাহিনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পথ তৈরি হবে।ইসির কর্মকর্তারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। একই ধরনের বিধান এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কার্যকর করতে চায় কমিশন, যাতে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের মোতায়েন করা সম্ভব হয়।

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন-সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলতে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), র;্যাব, আনসার, আনসার ব্যাটালিয়ন, বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং প্রতিরক্ষা সেবা বিভাগকে বোঝানো হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এই সংজ্ঞার আওতায় নেই।প্রস্তাবিত পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা কয়েকটি সংজ্ঞায় সংশোধনী আনছি। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি রয়েছে। স্থানীয় সরকারের কিছু স্তরের নির্বাচনে তারা ইতোমধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অন্য ক্ষেত্রে নেই। যেসব ক্ষেত্রে নেই, সেখানে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জেলা পরিষদ নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনে এই বিধান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি জানান, এ বিষয়ে মঙ্গলবার অথবা বুধবার কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

সংজ্ঞা পরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা মানেই তাদের মোতায়েন বাধ্যতামূলক নয়। প্রয়োজন হলে মোতায়েন করা হবে, আর প্রয়োজন না হলে হবে না।বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের নজির নেই। তবে ২০১১ সালের অক্টোবরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে পাঁচ দিনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছিল তৎকালীন নির্বাচন কমিশন। যদিও সেই অনুরোধ বাস্তবায়ন হয়নি।গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যকে আট দিনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল। ভোটের আগের তিন দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের চার দিন তারা দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ১৩টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় এবং অনেক জনপ্রতিনিধির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশন বড় ধরনের নির্বাচনী ব্যাকলগের মুখে পড়েছে।এই পরিস্থিতিতে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। আগামী আগস্টের প্রথমার্ধে তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে এবং স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের আচরণবিধির খসড়া মতামতের জন্য কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।এ ছাড়া ইসি ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা-২০২৫ সংশোধন করেছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ভোটকেন্দ্র রাখার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ আরও জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আইনি পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন না।তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী অক্টোবর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা সম্ভব হবে।