NEWSTV24
পাহাড় ধসে আরও সাত মৃত্যু, পানিবন্দি লাখো মানুষ
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

NEWSTV24

টানা ভারী বৃষ্টিতে বান্দরবানের লামায় গতকাল বৃহস্পতিবার পাহাড় ধসে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রাণ গেছে আরও দুই শিশুর। আগের দিন উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড় ধসে শিশু শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটল এসব ঘটনা।কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কয়েক হাজার মানুষ উঠেছেন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে। বেশ কয়েকটি এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। নেই মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক। তলিয়ে যাওয়া সড়কে যান চলাচল বন্ধ। কয়েক দিন ধরে পানির নিচে থাকা কয়েক হাজার হেক্টর জমির আমন ধান, সবজি ও বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এদিকে সাত জেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিন জেলায় বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। লামায় পাহাড় ধসে ৫ জনের মৃত্যু বান্দরবানের লামা উপজেলায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে । উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিশনপাড়া এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

গত বুধবার রাত ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে একটি পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে স্বামী-স্ত্রী মো. জুয়েল (২৮) ও কুলসুমা বেগম (২২) ঘটনাস্থলে মারা যান। ভোর ৪টার দিকে একই এলাকার পৃথক জায়গায় পাহাড় ধসে মো. ইউনুস (২৮), স্ত্রী রানু বেগম (২২) ও তাদের চার বছরের ছেলে সোলায়মানের মৃত্যু হয়।আজিজনগর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন বলেন, প্রথম ঘটনায় পাহাড় ধসে বেড়ার ঘর মাটিচাপা পড়ে স্বামী-স্ত্রী মারা যান। ভোরের দিকে পাহাড় ধসে একতলা পাকা বাড়ির দেয়াল ধসে ও মাটিচাপা পড়ে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তানের মৃত্যু হয়।

চকরিয়ায় ঝরল দুই শিশুর প্রাণ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাহাড় ধসে রুমি আক্তার (১৫) ও মোহাম্মদ তৌসিফ (১০) নামে দুই শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তারা চাচাতো ভাইবোন ছিল। গতকাল ভোরে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহছেনিয়া কাটা পাহাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রুমি আক্তার মোহছেনিয়া কাটা গ্রামের মোহাম্মদ কাজলের মেয়ে। সে বরইতলী দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আবদুল মজিদের ছেলে মোহাম্মদ তৌসিফ স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল। পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, এসব মৃত্যু মর্মান্তিক।প্রশাসন ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মাত্র চার দিনে কক্সবাজারে পাহাড় ধসে ১৭ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেই প্রাণ ঝরেছে ১৩ জনের। তাদের অধিকাংশই শিশু।

উখিয়া রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাঁচ মরদেহ উদ্ধার গত বুধবার পাহাড় ধসের ঘটনায় উখিয়া রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের খদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানার পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ সংখ্যা আট বলে জানানো হয়েছিল। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান এক বিবৃতিতে আটজনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করেন। তবে রাতে ৫ নম্বর ক্যাম্প ইনচার্জ (উপসচিব) মোহাম্মদ আবদুর রউফ স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন এবং উখিয়ার ১৪ এপিবিএন পৃথকভাবে নিশ্চিত করে, পাহাড় ধসের ওই ঘটনায় পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীর মারা গেছে। বান্দরবানে দেড় হাজার মানুষ আশ্রয়শিবিরে দুর্গতদের জন্য সাত উপজেলা ও দুই পৌরসভায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে গতকাল বিকেল পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খিচুড়ি, শুকনা খাবার, মোমবাতি ও বিশুদ্ধ পানি দেওয়া হচ্ছে।