NEWSTV24
ভারী বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জনজীবন বিপর্যস্ত
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ ০৯:২২ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণের পানিতে গতকাল বুধবারও চট্টগ্রাম ছিল দুর্ভোগের নগরী। বেশির ভাগ নিচু এলাকায় ঘরবাড়িতে হাঁটুপানি। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও। সেখানে নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। লোকজন ছুটছে আশ্রয়কেন্দ্রে। সাজেকে আটকা পড়েছেন ছয় শতাধিক পর্যটক।পানি ঢুকে পড়ায় চট্টগ্রাম নগরীর বেশির ভাগ স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় ক্লাস কিংবা পরীক্ষা হয়নি। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত এইচএসসি পরীক্ষাও স্থগিত রাখা হয়। বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে পণ্য ওঠানামা করলেও বহির্নোঙরে গতকালও ব্যাহত হয়েছে পণ্য খালাস কার্যক্রম।

পণ্য খালাস ব্যাহত


টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য ওঠানামা কার্যক্রম গতকালও ব্যাহত হয়েছে। দুদিন ধরে কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় জাহাজজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বহির্নোঙরে আসা বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা হয় লাইটার জাহাজে। এসব ছোট জাহাজ নৌপথে পণ্য নিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য ওঠানামা করার কাজ টানা দুই দিন ধরে বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে বন্দরের মূল জেটিতে কার্যক্রম ছিল স্বাভাবিক।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। আগের দিন একই সময়ে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। টানা তিন দিন ধরে এমন বৃষ্টির কারণে নগরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, মোহাম্মদপুর, চকবাজার, আগ্রাবাদ, হালিশহর, রামপুরা, বেপারীপাড়া, মুহুরীপাড়া, উত্তর কাট্টলী, দেওয়ান বাজার, কাপাসগোলা, প্রবর্তক, শান্তিবাগ, পাঠানটুলি, পুলিশ লাইন্স, এয়ারপোর্ট, চান্দগাঁও, মোহরা, কুয়াইশ, অক্সিজেনসহ বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোথাও হাঁটু, কোথাও আবার কোমরপানি জমে। নিচু এলাকার বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিচতলা পানিতে তলিয়ে চলে যায়। এসব এলাকার মোড়ে মোড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

ঘরের ভেতর হাঁটুপানি

নগরের হালিশহর এল ব্লক এলাকার বাসিন্দা সানাউল্লাহ। সন্দ্বীপ সাজেদা জুয়েলার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তিনি। টানা বৃষ্টিতে তাঁর নিচতলার ঘরে জমেছে হাঁটুপানি। তিনি বলেন, ঘরের ভেতর হাঁটুপানি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছি। মঙ্গলবার দোকান খুলতে পারিনি। বাসায় জমা পানি বের করতেই দিন পার হয়ে গেছে। এর মধ্যে আবার বুধবারও পানি ঢুকেছে। আমাদের এলাকার নিচতলায় থাকা কোনো বাড়ি রেহাই পায়নি পানির হাত থেকে।বহদ্দারহাটের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের বাসিন্দা মোজাহের সুজন বলেন, ঘরের সামনে পানি আর পানি। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও সড়ক থেকে পানি কমেনি। গত বছরও একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে আমাদের। এ থেকে মুক্তি মিলবে কবে?

চকবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. রুবেল বলেন, টানা বৃষ্টি হলেই জমে যাচ্ছে পানি। কিন্তু বৃষ্টি থেমে গেলে আবার পানি নামছে। আগে পানি আটকে থাকলেও এখন সেই সময় কিছুটা কমেছে। বৃষ্টি না থাকলে পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে