ইউক্রেন যুদ্ধে এক নতুন এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক মোড় সামনে এসেছে। সম্প্রতি রাশিয়ার চালানো এক বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে রুশ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে, পর্দার আড়ালে এক শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ দানা বাঁধছে, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে পুতিনের বৈঠক এবং আগামী সেপ্টেম্বরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য মার্কিন সফরের মতো বড় ধরনের কূটনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
আকাশ প্রতিরক্ষায় ইউক্রেনের চরম সংকট, রাশিয়া সম্প্রতি ইউক্রেনে প্রায় ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একযোগে ভয়াবহ হামলা চালায়। এবারের হামলায় ইউক্রেনের মার্কিন তৈরি ‘প্যাট্রিয়ট’ (Patriot) সহ অন্যান্য অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো প্রায় নিষ্ক্রিয় প্রমাণিত হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার মতো ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক মিসাইলের স্টক একেবারেই ফুরিয়ে এসেছে। ফলে লঞ্চার বা মূল ব্যবস্থাগুলো সচল থাকলেও, ছোঁড়ার মতো পর্যাপ্ত মিসাইল না থাকায় রাশিয়ার এই বিশাল আক্রমণ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে জেলেনস্কি বাহিনী। ছোটখাটো ড্রোন হামলা ঠেকাতে পারলেও, রাশিয়ার দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ও ভারী ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে এখন ইউক্রেন সম্পূর্ণ অরক্ষিত।
.কিয়েভে লাশের মিছিল, মানবিক বিপর্যয়, এই ব্যর্থতার সরাসরি খেসারত দিতে হচ্ছে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষকে। রাজধানী কিয়েভ এবং এর আশেপাশের এলাকায় মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে রুশ হামলায় ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন শত শত বেসামরিক নাগরিক। শুধুমাত্র কিয়েভের একটি হামলাতেই ২০ জনেরও বেশি প্রাণ হারিয়েছেন। পরপর কয়েকটি তরঙ্গে এই হামলা চালিয়ে রাশিয়া বার্তা দিয়েছে যে, তারা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ঢালকে যখন খুশি গুঁড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
ন্যাটোর কাছে জেলেনস্কির জরুরি আকুতি ,পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ৩২ দেশের ন্যাটোভুক্ত প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো ফাঁকা আশ্বাস বা সহানুভূতি নয়, এই মুহূর্তে ইউক্রেনের প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মিসাইল স্টক। তা না হলে পরবর্তী রুশ হামলা পুরো দেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবে।
কূটনৈতিক টেবিলে পুতিন, ট্রাম্প ও শি জিনপিং এই যুদ্ধের আবহে পর্দার আড়ালে বৈশ্বিক রাজনীতিতেও বড় ধরনের সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। একদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ৯০ মিনিটের বৈঠকের গুঞ্জন আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলেছে। অন্যদিকে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারেন বলে জোরালো ইঙ্গিত মিলছে। যদি শি জিনপিংয়ের এই সফর সত্যি হয়, তবে তা বৈশ্বিক রাজনীতি ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বিশাল টার্নিং পয়েন্ট হতে যাচ্ছে।
রণক্ষেত্রের মিসাইল হামলা আর কূটনৈতিক টেবিলের এই উচ্চপর্যায়ের তৎপরতা একই সূত্রে গাঁথা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়াশিংটন এবং পশ্চিমা মিত্রদের জন্য এখন বড় পরীক্ষা—তারা কত দ্রুত ইউক্রেনের এই ফুরিয়ে যাওয়া মিসাইল সংকট কাটাতে পারে, নাকি রাশিয়া এই সুযোগে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেবে।