NEWSTV24
প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয়ে উচ্ছ্বসিত কোচ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ১০:২১ পূর্বাহ্ন

NEWSTV24

বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে টাইব্রেকারের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর নিজের খেলোয়াড়দের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দলের কোচ গুস্তাভো আলফারো। তার ভাষায়, খেলোয়াড়রা অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন।ম্যাচের প্রথমার্ধে হুলিও এনসিসোর গোলে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। পরে কাই হাভার্টজ গোল করে জার্মানিকে সমতায় ফেরান। অতিরিক্ত সময়ে জোনাথান তাহের একটি গোল বাতিল হয়ে গেলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪ ৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় প্যারাগুয়ে। দলের গোলরক্ষক অরলান্দো গিল দুটি গুরুত্বপূর্ণ শট ঠেকিয়ে জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন।ম্যাচ শেষে আলফারো বলেন, অন্য সবার মতো আমিও ভীষণ উত্তেজনার মধ্যে ছিলাম। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ছিল চাপ ও উত্তেজনায় ভরা। কারণ আমরা জানতাম, বিশ্বের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী এবং অসাধারণ মানের একটি দলের বিপক্ষে খেলছি। ম্যাচের আগে তারাই ছিল পরিষ্কার ফেবারিট।

তিনি জানান, তার খেলোয়াড়রা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছে এবং জার্মানিকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে দেয়নি।খেলোয়াড়রা খুব ভালোভাবে বুঝেছিল ম্যাচটি কী দাবি করছে। তারা দারুণ পরিশ্রম করেছে, যাতে জার্মানি ফাঁকা জায়গা না পায় এবং নিজেদের খেলার ছন্দে ফিরতে না পারে।ম্যাচের শারীরিক চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেন প্যারাগুয়ের এই কোচ। তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবেই কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু ম্যাচটির চাপ ছিল অনেক বেশি। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো এবং দ্রুত জায়গা বন্ধ করতে গিয়ে আক্রমণে ওঠার মতো শক্তি অনেক সময় আর অবশিষ্ট থাকেনি।বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনও টাইব্রেকারে হারেনি জার্মানি। তবে সেই ইতিহাস বদলে দিয়েছে প্যারাগুয়ে। যদিও আন্তোনিও সানাব্রিয়া ও ফাবিয়ান বালবুয়েনা নিজেদের শট নষ্ট করে জার্মানিকে ফিরে আসার সুযোগ দিয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে আলফারো বলেন, মনে হয় কষ্ট না পেলে আমাদের জয়ই হয় না। টাইব্রেকার ছিল ভীষণ নাটকীয়। ষষ্ঠ শট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।এরপর এই জয় তিনি উৎসর্গ করেন দেশের সমর্থকদের।এই সাফল্য সেই সব প্যারাগুয়েবাসীর জন্য, যারা সব সময় আমাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছেন।বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি প্যারাগুয়ের মাত্র দ্বিতীয় জয়। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে ফ্রান্স, যদি তারা সুইডেনকে হারাতে পারে।জার্মানির বিপক্ষে গোল করা হুলিও এনসিসো বলেন, সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।তারা অসাধারণ একটি দল। বিশ্বের সেরা মানের অনেক খেলোয়াড় তাদের দলে রয়েছে। আলাদা করে কারও নাম বলার প্রয়োজন নেই। তারা সবাই তারকা এবং প্রায় সব বড় শিরোপাই জিতেছে। আমরা সেই অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করব।দ্বিতীয়ার্ধে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেও এনসিসোর বিশ্বাস, নিজেদের শক্তির জোরে যে কোনো প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে প্যারাগুয়ে।তিনি বলেন, আমাদেরও নিজস্ব শক্তি আছে। নিজেদের খেলার ধরন ধরে রেখে আমরা যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন লড়াই গড়ে তুলতে চাই।পরবর্তী ম্যাচে জিততে পারলে বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্যের সমতা গড়বে প্যারাগুয়ে। ২০১০ সালে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। সেবার শেষ মুহূর্তের গোলে ভবিষ্যৎ চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।জার্মানির বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এনসিসো বলেন, আমরা জার্মানিকে যথেষ্ট সম্মান করেছি, কারণ তাদের দলে অনেক দুর্দান্ত খেলোয়াড় রয়েছে। কিন্তু আমরা কাউকেই ভয় পাই না।