NEWSTV24
অলিগলিতে পশুর হাট
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ১০:১৩ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

আর মাত্র দুদিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। গতকাল রবিবার ছিল সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শেষ কর্ম দিবস। তবে অফিস শেষ হওয়ার আগেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসে যায়। সরকারি-বেসরকারি অফিসের সামনে, সড়কের পাশে, এমনকি আবাসিক এলাকার অলিগলিতেও পশু নামানো হয়। এতে বিকালে অফিসফেরত মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় এবার ২৩টি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন হাট বসবে এবং নির্ধারিত এলাকার বাইরে পশু নামানো বা কেনাবেচা করা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে সেই শর্ত মানছেন না অনেক ইজারাদার ও ব্যবসায়ী। হাটের আশপাশের রাস্তা, ফুটপাত, খালি প্লট ও বাসাবাড়ির সামনেও গড়ে উঠেছে অননুমোদিত পশুর বাজার। অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে কার্যকর নজরদারিও নেই।অনিয়ন্ত্রিতভাবে পশুর হাট বসায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দখল, তীব্র যানজট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, কামরাঙ্গীরচর ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে অলিগলি ও সড়কের পাশে গরু-ছাগল বিক্রি শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও আবাসিক এলাকার ভেতরে ট্রাক এনে পশু নামানো হচ্ছে। আবার অনেক এলাকায় বাঁশ ও ত্রিপল টানিয়ে রাস্তার একাংশ দখল করে অস্থায়ী হাট গড়ে তোলা হয়েছে।

মিরপুর সেকশন-৬ ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার অস্থায়ী হাটের ইজারাদার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের হাটের নির্দিষ্ট সীমানা আছে। আমরা কাউকে বাইরে বসতে দিই না। কিন্তু দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই পশু নিয়ে এসে রাস্তায় নামিয়ে ফেলছেন। তাদের জোর করে সরাতে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। মানবিক কারণে আমরা সহযোগিতা করছি।তবে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত এলাকার বাইরে কোথাও হাট বসার কথা না থাকলেও গতকাল পর্যন্ত তদারকিতে প্রশাসনকে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন বলেন, ইজারার শর্তে স্পষ্টভাবে বলা আছে, নির্ধারিত এলাকার বাইরে কোনোভাবেই পশুর হাট বসানো যাবে না। শর্ত ভঙ্গ হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে বাস্তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই সেই শর্ত ভঙ্গ হচ্ছে। তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা জাফর আহমেদ বলেন, আগে কখনও এতটা রাস্তা দখল করে হাট বসতে দেখিনি। এবার এলাকাজুড়েই গরু নামানো হয়েছে।

সরেজমিন মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোড, ইকবাল রোড ও টিক্কাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, অলিগলিতেই গড়ে উঠেছে অস্থায়ী পশুর হাট। অনেক জায়গায় নির্দিষ্ট ইজারাদার না থাকলেও হাসিল আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই এসব হাট বসানো হচ্ছে। ফলে প্রশাসনের অভিযানও কার্যকর হচ্ছে না। এতে যানজটের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি।সরেজমিন দেখা গেছে, মোহাম্মদপুর শাহজাহান রোড, ইকবাল রোড, টিক্কাপাড়াসহ অধিকাংশ গলিতেই পশুর হাট বসিয়ে ফেলেছে। এসব জায়গায় নির্দিষ্ট কোনো ইজারাদার নেই। তবে হাসিলের রশিদ বানিয়ে বসেছেন অনেকেই। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অনুমতিতেই এটা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, রাস্তার পাশে গরু নামানোর কারণে ভয়াবহ যানজট হচ্ছে। রাতে দুর্গন্ধে জানালা খোলা যায় না। ঈদের ছুটিতে বাচ্চাদের নিয়ে বের হওয়ারও সুযোগ নেই।নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, অননুমোদিত পশুর হাটের কারণে একদিকে যেমন সিটি করপোরেশন রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ভেঙে পড়ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও। এসব হাটে পশুর বর্জ্য অপসারণ বা জীবাণুনাশক ব্যবহারের কোনো ব্যবস্থা থাকে না। এতে পরিবেশদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।