মাঝেমধ্যেই নাক বন্ধ হওয়া খুব সাধারণ একটি সমস্যা। সর্দি-কাশি বা সাইনাসের কারণে এমনটা প্রায়ই হয়ে থাকে। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে একপাশের নাক বন্ধ থাকে, ঘন ঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়ে বা গন্ধ পাওয়ার ক্ষমতা হঠাৎ কমে যায়, তাহলে বিষয়টি সাধারণ ঠান্ডাজনিত সমস্যা নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপসর্গ নাক বা সাইনাসে টিউমারের আগাম সংকেত হতে পারে। নাক ও আশপাশের সাইনাসে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধিকে ন্যাসাল ও প্যারান্যাসাল টিউমার বলা হয়। এটি ক্যানসারজনিতও হতে পারে, আবার নন-ক্যানসারাসও হতে পারে। রোগটি তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও দেরিতে শনাক্ত হলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেতে পারে। তাই শুরুতেই সচেতন হওয়া জরুরি। নাকের ভেতরের ফাঁকা অংশ বা আশপাশের বায়ুভর্তি সাইনাসে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি পেলে তাকে নাকের টিউমার বলা হয়। কিছু টিউমার ক্ষতিকর নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে তা ক্যানসারে পরিণত হতে পারে। নন-ক্যানসারাস টিউমারের মধ্যে রয়েছে ন্যাসাল পলিপ ও হেম্যাঞ্জিওমা। অন্যদিকে স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা, অ্যাডিনোকার্সিনোমা ও নিউরোব্লাস্টোমার মতো ক্যানসারও নাকে দেখা দিতে পারে।
প্রথমদিকে এ রোগের লক্ষণ অনেকটা সাধারণ সাইনাস সমস্যার মতো হওয়ায় অনেকে বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। তবে নিচের উপসর্গগুলো দীর্ঘদিন থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোষের জিনগত পরিবর্তনের কারণেই মূলত এই টিউমার তৈরি হয়। যদিও এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি, তবে দীর্ঘদিন কারখানা বা রাসায়নিক পরিবেশে কাজ করা ব্যক্তিদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
টিউমারের ধরন ও অবস্থার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা হয়। টিউমার ক্যানসারে রূপ নিলে রেডিয়েশন থেরাপি বা কেমোথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের আগেই রেডিয়েশন দেওয়া হয়, যাতে টিউমারের আকার ছোট হয়ে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে নাকের অনেক ক্যানসারই পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। তবে দেরি হলে এটি চোখ, মস্তিষ্ক কিংবা শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই দীর্ঘদিনের নাক বন্ধ, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা গন্ধ না পাওয়ার মতো সমস্যাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র : ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক