NEWSTV24
২৬ দিন বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরলো ইস্টার্ন রিফাইনারি
শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ ১১:২১ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকটে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় বন্ধ থাকা দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারকেন্দ্র ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) মূল প্ল্যান্ট ফের চালু ফিরেছে।শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৮টায় শোধনাগারটিতে পূর্ণদমে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়।ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সকাল ৮টায় আমাদের প্ল্যান্ট চালু হয়েছে। তবে প্রসেস হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। এরপর উৎপাদন শুরু হবে।এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার শোধনাগারকেন্দ্রটি চালু করতে সৌদি আরব থেকে আসা এক লাখ টন ক্রুড অয়েল ট্যাংকে পৌঁছে। তখনই জানানো হয়েছিল, বৃহস্পতিবার রাতে অথবা শুক্রবার সকালে প্ল্যান্টটি চালু হবে।গত বুধবার দুপুর ১২টার পর সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন ক্রুড নিয়ে আসা ট্যাংকার জাহাজ এমটি নিনেমিয়া কুতুবদিয়া অ্যাংকরে নোঙর করে। পরে রাত ১০টার দিকে জাহাজটি থেকে লাইটারিং শুরু হয়।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ক্রুড অয়েলের চরম সংকটে পড়া রিফাইনারিটি এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত লো ফিডে চালু রাখা হয়। তবে গত ১২ এপ্রিল থেকে প্ল্যান্টটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

দৈনিক প্রায় ৪ হাজার টন ডিজেল উৎপাদনে সক্ষম ইস্টার্ন রিফাইনারিতে তেলের শেষ চালান আসে গত ফেব্রুয়ারিতে। ইরান যুদ্ধের কারণে মার্চের পর থেকে আমদানি জটিলতা তীব্র আকার ধারণ করে।বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল।গত মঙ্গলবার ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানিয়েছিলেন, আরও এক লাখ টন ক্রুড নেওয়ার জন্য এমটি ফসিল নামের আরেকটি জাহাজ ফুজাইরার পথে রয়েছে। এটিও ১১ মে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসার কথা রয়েছে।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মালিকানাধীন একমাত্র পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি ইআরএল। এতে পরিশোধনে ব্যবহৃত শতভাগ ক্রুড অয়েল আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ জি টু জি পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব ক্রুড আমদানি করে। আমদানি করা ক্রুডের শতভাগ পরিবহন করে সরকারি পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিএসসি। এসব ক্রুড পরিবহনের জন্য বর্তমানে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান নর্ডিক এনার্জি থেকে চার্টারে জাহাজ ভাড়া নেয় বিএসসি।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিএসসির চার্টারার প্রতিষ্ঠান আমেরিকান কোম্পানি হওয়ায় মার্চ মাসে দুই লাখ টন ক্রুড পরিবহনে ঝুঁকি তৈরি হয়। এরমধ্যে সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে এক লাখ টন ক্রুড লোড করে হরমুজ প্রণালিতে হামলার আশঙ্কায় গত ৫ এপ্রিল থেকে আটকা পড়ে নর্ডিক পোলাক্স নামের ট্যাংকার জাহাজ। দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কখন জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে তার নিশ্চয়তা এখনো মেলেনি।পাশাপাশি গত ২২ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবল দানা বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড আনার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সূচি পাল্টে ৩১ মার্চ শিডিউল নির্ধারণ করা হয়। তবে যুদ্ধ এলাকায় মালিকপক্ষের জাহাজ পাঠানোর অনীহার কারণে & ওমেরা গ্যালাক্সি নামের ট্যাংকার জাহাজটির যাত্রা বাতিল হয়। ফলে ক্রুড অয়েল সংকটে গত ১২ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল প্ল্যান্ট ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট (সিডিইউ) পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সিডিইউনির্ভর অন্য প্ল্যান্টগুলোও বন্ধ হয়ে যায়।