ঢাকা আইনজীবী সমিতির (বার) ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের কার্যকরী কমিটি গঠনের নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সব পদে বিএনপিপন্থীরা জয়লাভ করেছেন। ভোটগণনা শেষে গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন। তবে নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।এ নির্বাচনে ঘিরে জাল ভোট, অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিল। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এ অভিযোগ করেন।অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও ব্যাপক কারচুপির হয়েছে। এর জন্য বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলকে দায়ী করে তীব্র প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটি।
শুক্রবার এনসিপির ন্যাশনাল ল ইয়ার্স অ্যালায়েন্সের মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়েছে। এ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও সমমনা সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যের নীল প্যানেলের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ৪ হাজার ৪৬৮ ভোট পেয়ে জামায়াত ও সমমনা সমর্থিত সবুজ প্যানেলের সভাপতি এস এম কামাল উদ্দিনকে ২ হাজার ২৮৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। কামাল উদ্দিন ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৯।আর নীল প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. আবুল কালাম খান ৪ হাজার ৪৫ ভোট পেয়ে সবুজ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিককে ২ হাজার ৩৮৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। আবু বকর সিদ্দিক ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৬৬১ ভোট।প্যানেলের বিজয়ী অন্য প্রার্থীরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান (আনিস), সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. এলতুতমিশ সওদাগর (অ্যানি), সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরি সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ), সাংস্কৃতিক সম্পাদক মারজিয়া হীরা, অফিস সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন মৃধা, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সোহেল খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ.এস.এম ফিরোজ এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম (শফিক)।
সদস্য পদে এই প্যানেল থেকে লড়ছেন- এ.এইচ.এম রেজওয়ানুল সাঈদ (রোমিও), ফারজানা ইয়াসমিন, মো. আদনান রহমান, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম (মামুন), মো. সানাউল, মামুন মিয়া, মুজাহিদুল ইসলাম (সায়েম), শেখ শওকত হোসেন এবং সৈয়দ সারোয়ার আলম (নিশান)।এর আগে শুক্রনার সকালে ভোট সটিং করার পর বিকেল থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। এরও আগে এ নির্বাচনে প্রথম দিন বুধবার ২ হাজার ৭৫৯ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। আর দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার মোট ৪ হাজার ৩১০ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সে হিসেবে দুই দিন মোট ৭ হাজার ৬৯ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে মোট ২০ হাজার ৭২৭ আইনজীবী ভোটার ছিলেন। এ নির্বাচনে সম্পাদকীয় পদে ১৩ জন সহ কার্যকরী সদস্য পদে ১০ জনসহ মোট ২৩টি পদের অনুকূলে ৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যার মধ্যে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত নীল প্যানেল ও জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেলের ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৯ জন।