NEWSTV24
রাজধানীর ১১৩৯টি কেন্দ্রে হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৩৫ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

সারা দেশে শিশুদের মাঝে হামের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এক হাজার ১৩৯টি কেন্দ্রে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রায় ১০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনায় গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে আগামী ১১ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রত্যেক শিশুকে হাম-রুবেলা প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হবে। রাজধানীর পাশাপাশি ময়মনসিংহ ও বরিশাল মহানগরীতে গতকাল টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।এদিকে, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি ছয়টি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৬২টি শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১৫০ জনের। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এই হিসাব গত শনিবার সকাল আটটা থেকে গতকাল রবিবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, হামে যে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা সবাই ঢাকার। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া ছয় শিশুর পাঁচজন ঢাকা বিভাগের, একজন খুলনার। এই সময়ে সর্বোচ্চ ১২৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। ২১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে রাজশাহী বিভাগে। আর সবচেয়ে কম ১ জন করে হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেটে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গতকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ২৬৮ জনের মধ্যে। এর মধ্যে ৫৮০ জনই ঢাকা বিভাগের। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৬২ জন, যার মধ্যে ৩৫৭ জনই ঢাকা বিভাগে। সবচেয়ে কম রোগী ভর্তি হয়েছে রংপুর (১১) ও ময়মনসিংহে (২২)। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৬৩৪ জন একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত ২৯ দিনে হামে ২৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৫১টি শিশুর।

এদিকে, মরণঘাতি হাম অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত ২৭ মার্চ ১৫ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন রাজিয়া খাতুন। গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে অবস্থানকালে তার ছেলের শরীরে প্রথমে জ্বর ও পরে লালচে র;্যাশ দেখা দেয়। স্থানীয় নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। গতকাল রাজিয়া খাতুন জানান, শুরুতে চিকিৎসকরা বিষয়টিকে অ্যালার্জি হিসেবে ধারণা করেছিলেন। কিন্তু পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে প্রথমে সদর হাসপাতালে গেছি, পরে ঢাকায় আইছি। প্রায় দশ দিন ধরে হাসপাতালে আছি। তিন দিন লাইফ সাপোর্টে আছিল আমার পোলা। এখন একটু ভালো হওয়ায় ওয়ার্ডে নেওয়া হইছে।হাসপাতালের নার্স মোছা. জিনিয়া আক্তার জানান, প্রতিটি শিশুকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতা অনুসরণ করা হচ্ছে।