NEWSTV24
সরাসরি সংলাপে সমঝোতার চেষ্টা
রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০৭ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

সড়ক খালি। কোনো যানবাহন নেই। নেই পথচারীর পদচারণাও। আকাশে হেলিকপ্টার ও নজরদারি ড্রোনের চক্রাকারে ঘোরাফেরা। প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে সাঁজোয়া যান, সেনাবাহিনীর সশস্ত্র টহল। কোনো কোনো এলাকায় অফিস-আদালত, ব্যবসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, যেন কঠোর লকডাউন পরিস্থিতি।এটি কোনো যুদ্ধাবস্থায় থাকা শহরের দৃশ্য নয়; বরং যুদ্ধ বন্ধের আয়োজন। গতকাল শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এমন নিরাপত্তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ দুই পক্ষের মধ্যস্থতায় বৈঠকে অংশ নেন পাকিস্তানের শীর্ষ প্রতিনিধিরাও। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এটাই প্রথম মুখোমুখি আলোচনা। পাকিস্তানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পিটিভি নিউজের বরাত দিয়ে দ্য ডন জানিয়েছে, ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে এ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সরাসরি অনুষ্ঠিত হয়।দুই দেশের মধ্যে গতকাল রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুই পর্বের আলোচনা শেষ হয়। আলজাজিরা জানায়, সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনার এক পর্যায়ে দুই দেশ লিখিত নথি বিনিময় করে। যুদ্ধবিরতি চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে এ আলোচনা আরও চলবে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রাত দেড়টায় বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রথম দফার তৃতীয় পর্বের আলোচনা (গতকাল) রাতেই হওয়ার কথা, নয়তো আজ রোববার হতে পারে। অবশ্য ইরানের সঙ্গে সংলাপের জন্য আজকের দিনটি পূর্বনির্ধারিত ছিল না।

বাংলাদেশ সময় গতকাল মধ্যরাতের পর ইরান সরকারের তরফ থেকে দেওয়া এক্স পোস্টে বলা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আলোচনায় অর্থনৈতিক, সামরিক, আইন ও পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন। সেরেনা হোটেলে আলোচনা চলছে। ইসলামাবাদ থেকে আলজাজিরার কিমবারলি হালকেট বলেন, আলোচনা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে গোপনীয়তার মধ্যে হচ্ছে। আলোচকরা কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা মতবিনিময় করেছেন।সূত্র জানায়, প্রথম দিন দুই পক্ষের দরকষাকষিতে হরমুজ ও লেবানন ইস্যুটি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। বৈঠকের পর তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় মতানৈক্য হয়েছে। ইরান ওয়াশিংটনের দাবিকে অতিরঞ্জিত বলে বর্ণনা করেছে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।ইসলামাবাদ সংলাপ নামে পরিচিত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, পাকিস্তান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা একই কক্ষে বসে আলোচনা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরাসরি আলোচনা প্রায় দুই ঘণ্টা চলার পর নৈশভোজের বিরতি দেওয়া হয়। পরে আবার আলোচনা শুরু হয়।শুরুতে বলা হচ্ছিল, দুই দেশের প্রতিনিধিরা পরোক্ষভাবে আলোচনায় অংশ নেবেন। পরে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়। এটিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র জানায়, আলোচনায় লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা গুরুত্বের সঙ্গে তুলেছে ইরান। কিছু সূত্র ইঙ্গিত দেয়, (ইসরায়েলের) অভিযান এখন লেবাননের দক্ষিণে সীমাবদ্ধ থাকবে; বৈরুতে আর কোনো হামলা হবে না। ইরানের সূত্র অনুযায়ী, দেশটির সম্পদ ছাড় হতে যাচ্ছে, এমন কিছু পরিবর্তনও হয়েছে।এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি বিমানবন্দরে গিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান। সঙ্গে ছিলেন দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও। প্রথমে ইরানের প্রতিনিধি দল পৌঁছালে মন্ত্রীদের সঙ্গে সামরিক পোশাকে স্বাগত জানান মুনির। কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন প্রতিনিধিরা এলে তিনি স্যুট-কোট পরে তাদের স্বাগত জানিয়েছেন।

সংলাপ শুরুর আগে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা আয়োজক দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। শাহবাজের সঙ্গে জেডি ভ্যান্স যে বৈঠক করেছেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জেরাড কুশনারও ছিলেন। এর আগে ইরানের সঙ্গে যত ব্যর্থ আলোচনা হয়েছিল, সবকটিতে উইটকফ ও কুশনারকে দেখা গেলেও এই প্রথম দৃশ্যপটে এলেন জেডি ভ্যান্স। আলজাজিরা জানায়, বৈঠকে উইটকফ ও কুশনারের উপস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট দলের নেতারা। তারা এ দুজনের কূটনৈতিক সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ভ্যান্সের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পাকিস্তানের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি; ছিলেন উইটকফ ও কুশনারও। পরে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন শাহবাজ। তবে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠক প্রসঙ্গে শাহবাজ শরিফ বলেন, এ আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় ধাপ হিসেবে কাজ করবে। সেই সঙ্গে দুই পক্ষকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে পাকিস্তানের অঙ্গীকারের কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।