NEWSTV24
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হতে পারে
সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৫১ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানযুদ্ধের মেয়াদ যত দীর্ঘ হচ্ছে, বাংলাদেশে ততই সংকট বাড়ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। সরকার একদিকে বলছে জ্বালানি সংকট নেই। অন্যদিকে প্রতিনিয়ত তেলের পাম্প ও ডিপোগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। সরকার সব ধরনের জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে। অফিস ও দোকানপাট খোলা বা বন্ধের নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে। জ ;ালানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থা মেনে চলতে বলছে দেশবাসীকে। সরকারের এসব উদ্যোগের লক্ষ্য আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা।এদিকে ইরানযুদ্ধের ফলে অনেক দেশেই জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক দেশে জ ;ালানি তেল ও পণ্যের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশে দাম না বাড়লেও একাধিক সূত্র জানায়, দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে সরকার। বিশেষ করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি বিশ্লেষণ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এদিকে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। বিশেষ করে এপ্রিল-মে মাস গরম ও শুষ্ক থাকে, এ সময় কৃষির সেচকাজে বিদ্যুৎ ও তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়। ফলে ইরানযুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়তে যাচ্ছে দেশ।বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকার নানা উৎস থেকে জজ্বালানি তেল আমদানির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এখন যুদ্ধের কারণে জ ;ালানি তেল, এলএনজি অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সরকারি রিজার্ভে চাপ পড়ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, জ্বালানি আমদানির স্বাভাবিক সময়েও দেশে লোডশেডিং করতে হয়। এখন যুদ্ধের কারণে এলএনজি, জ ;ালানি তেল আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ ছাড়া চলতি বছর সর্বোচ্চ গরম পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আগামী দুই-তিন মাস বিদ্যুৎ সরবরাহ সামলানো নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উদ্বেগ রয়েছে।বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসূত্রে জানা যায়, এপ্রিল ও মে মাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নানা পরিকল্পনা করা হয়েছে।বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) হিসাব অনুযায়ী, এই দুই মাসে বিদ্যুতের চাহিদা থাকবে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত। তবে ইরানযুদ্ধ, এলএনজি আমদানি ও জ ;ালানি তেলের সংকট, নিজস্ব গ্যাসপ্রাপ্তি ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়া, সর্বোপরি আর্থিক সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করে সরকার বিদ্যুৎ সরবরাহের কিছু কৌশল প্রণয়ন করেছে। এসব কৌশলের মধ্যে রয়েছে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং বা লোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া।বিদ্যুৎ বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের কারণে সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশ একটা বড় সমস্যার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। মার্চ মাস ভালোভাবে পার হলেও এপ্রিল এবং মে মাস নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এ সময় এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে। গ্যাসসংকটের কারণে প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎকেন্দ্র সারা বছরই বন্ধ থাকে। অর্ধেক চালু থাকলেও গ্যাসসংকটে সব সময় চালু রাখা কঠিন।

সূত্র জানায়, এ বছর মার্চ-এপ্রিলে গড়ে ৮০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে- এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কমপক্ষে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের জোগান নিশ্চিত করতে হবে। এর চেয়ে কম গ্যাস সরবরাহ করা হলে লোডশেডিং এক হাজার মেগওয়াট পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে। জানা গেছে, এপ্রিল-মে মাসে পেট্রোবাংলা সর্বোচ্চ ৯০০ মিলিয়ন ঘটফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করতে পারবে। বিশ্ববাজারে জ ;ালানিসংকটে সার আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সরকার গ্যাস সরবরাহ দিয়ে কয়েকটি সার কারখানা চালু করবে। ফলে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমবে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।