NEWSTV24
বরগুনাসহ চার জেলায় হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়, শত শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৬:৪৪ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

দেশের কয়েকটি জেলায় সোমবার রাতে ঝড়ের আঘাতে শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কৃষকের ফসলের ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। তাছাড়া গাছ-গাছালি উপড়ে পড়া ছাড়াও ঘর-দোকানপাটের চাল উড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে কোথাও টানা অন্ধকারে রাত কাটাতে হয়েছে বাসিন্দাদের। তালতলীতে শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলায় আকস্মিক ঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়ে হাজারও গাছ। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় ১৫ ঘণ্টা ধরে অন্ধকারে ছিল দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। জানা যায়, রাত ১টার দিকে আকস্মিক ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টিও ছিল। এতে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে যায়। ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়।আমতলীর চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা, গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানি, গোছখালি, হলদিয়া ইউনিয়নের সোনাউটা, অফিস বাজার ও রাওঘা গ্রামের ৮টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যায়। এতে উপজেলার ৬৩ হাজার গ্রাহক রাত ১টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল। তালতলী উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মোতাহার হোসেন জানান, ৩১ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়। ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন বাসিন্দারা।

আমতলী পৌর এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বাসাবাড়িতে রান্নাবান্নায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। পৌরসভার বাসিন্দা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গৃহবধূ তানজিলা বেগম বলেন, ১৫ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুতের সঙ্গে পানিও নাই। রান্নাবান্না হয়নি।আমতলী উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মো. কাওছার হোসেন জানান, আমতলী উপজেলার ৬৩ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। ঝড়ে ৮টি খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ভোলার ঢালচরে ঘরচাপায় আহত ১০ ভোলার চরফ্যাসনে ঝড়ে প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ি ও মৎস্যঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়ে অনেক গাছাপালা। গাছ উপড়ে বসতঘরে ওপর পড়ায় প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। চরফ্যাসনের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকার বিচ্ছিন্ন পর্যটন দ্বীপ ঢালচরে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়।ঢালচরের মো. হাসান জানান, রাতে ঘরের যার যার মতো শুয়ে-বসে ছিলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঝড় আঘাত হানে এবং ঘরের চাল উড়ে যায়। তছনছ হয় খাট-বিছানাসহ অন্যান্য মালপত্র। কিছু কিছু উড়ে যায় বাতাসে।

পূর্ব ঢালচর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছালাউদ্দিন জানান, তাদের বসতঘর এখন ভিটের বাইরে পড়ে আছে। উন্মুক্ত হয়ে পড়ায় ভয়ে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে। সিদ্দিক ও ফারুক বাতান জানান, আকস্মিক ঝড়ে ঘর ধসে যায়। ঘরের নিচে অনেকে চাপা পড়েন। গোবিন্দগঞ্জে ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঝড়ে চার শতাধিক বসতবাড়িসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ঝড়ে হেলে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। ফলে গত দুদিন ধরে চার শতাধিক পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অনেকেই বর্তমানে স্থানীয় বিদ্যালয় ও উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান করছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোম ও মঙ্গলবার দুদিনে ঝড় ও প্রবল বাতাসের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে চার শতাধিক বাড়ি ভেঙে পড়েছে। উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের রাজাহার গ্রাম, কাটাবাড়ী ইউনিয়নের নাছিরাবাদ, সাপমারা ইউনিয়নে তরফকামাল ও চকরহিমাপুর এলাকার অনেক বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। ঝড়ে গাছপালার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকের কলা, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে বহু পরিবার।এ বিষয়ে রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন।